সারা বাংলা

ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার শিবির নেতা জিসান সুস্থ, ছাড়পত্র দিল হাসপাতাল

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকা ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে ছাড়পত্র দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সুস্থ বলে প্রতিবেদন দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১৬ মে) দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ছাড়পত্র দেয়।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিন বেলা ৩টার দিকে জিসানকে আদালতে হাজির করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

কুমিল্লার দাউদকান্দির এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জিসানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় গত শুক্রবার রাতে। কিন্তু, ওই ছাত্রশিবির নেতা নিজেকে অসুস্থ দেখিয়ে পুলিশি হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এত দিন। এজন্য তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও আদালতে পাঠায়নি পুলিশ। যদিও যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ বলছে, জিসান ‘পুরোপুরি সুস্থ’ আছেন।

এমন পরিস্থিতিতে জিসান প্রকৃতপক্ষে অসুস্থ কি না, সেটি জানতে গত রবিবার চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গতকাল সোমবার মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা জিসান মিয়া প্রধানের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিবেদন নিয়ে বসেন। এতে মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা জিসানের শারীরিক অবস্থা ‘ভালো’ বা ‘সুস্থ’ দেখে হাসপাতাল পরিচালকের কাছে প্রতিবেদন দেন। এর ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, “মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা পর্যবেক্ষণ করে জিসান মিয়া সুস্থ বলে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। আজ দুপুর ১২টায় তাকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে আছেন।” 

কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকায় অচেতন অবস্থায় জিসানকে উদ্ধার করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। ওই দিন রাতেই চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। 

পুলিশের ভাষ্য, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি; তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। জিসান মিয়া (২৮) ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।

জেলা পুলিশ জানায়, ১১ জুন রাতে জিসান নিখোঁজ হয়েছেন, জানিয়ে তার চাচাতো ভাই রাসেল আহম্মেদ দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির পর জেলা পুলিশের একাধিক দল তাকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে। 

অনুসন্ধানকালে পুলিশ জানতে পারে, কয়েক মাস আগে ফেসবুকে এক বিধবা নারীর (২৫) সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয় এবং তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমের সম্পর্কের জেরে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর জিসান ওই নারীকে ভ্রূণ নষ্ট করার জন্য চাপ দেন এবং একপর্যায়ে ওষুধ সেবনের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটানো হয়। পরে ওই তরুণী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি ১২ জুন বিয়ে করবেন বলে সম্মতি দেন। তবে, বিয়ে এড়াতে ১১ জুন রাতেই তিনি নাটক সাজিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। নিখোঁজের অনুসন্ধান চলাকালে গত শুক্রবার রাতে লাকসাম এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।