সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জেবা আমিন খান বলেছেন, “প্রস্তাবিত বাজেটের সফলতা মূলত নির্ভর করবে এর সঠিক ও কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর।”
তিনি বাজেটকে ব্যাপক ও প্রশংসনীয় হিসেবে উল্লেখ করলেও একই সঙ্গে দায়িত্বশীল বাস্তবায়ন ও সমন্বিত উন্নয়ন কৌশলের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
বক্তৃতার শুরুতেই তিনি বর্তমান সরকারের বাজেট কাঠামোর প্রশংসা করে বলেন, “এটি প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার একটি বড় বাজেট, যা আগের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বাজেট তিনটি মূল কৌশল রিকভারি, রেস্টোরেশন এবং রিকনস্ট্রাকশন—কে কেন্দ্র করে প্রণয়ন করা হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নকে এগিয়ে নেবে।”
তিনি বলেন, “বাজেটে মানবসম্পদ উন্নয়ন, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং সবুজ প্রবৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একটি টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মানবসম্পদ উন্নয়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত।”
শিশু শিক্ষা ও প্রাথমিক বিকাশ নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে জেবা আমিন খান বলেন, “শিশুর শেখার প্রক্রিয়া খুবই প্রাথমিক বয়স থেকেই শুরু হয়।”
‘অ্যাবজর্ভেন্ট মাইন্ড’ ধারণার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,“ছোট বয়সে শিশুদের পরিবেশ থেকেই শেখার সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। ডে-কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
তিনি যুক্তরাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার উদাহরণ টেনে বলেন, “সেখানে ০ থেকে ৭ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের জন্য কাঠামোবদ্ধ ফাউন্ডেশন স্টেজ অনুসরণ করা হয়, যা শিশুদের পরিবেশ থেকে শেখার সুযোগ তৈরি করে।”
এ ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশেও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “তার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান পরিবেশ থেকে অনেক কিছু শিখেছে। তার সন্তান দুই ভাষা শিখতে সক্ষম হয়েছে এবং দেশে ও বিদেশে পার্থক্য করে ডাকতে পারে।”
এই অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম।”
বাজেট বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে জনগণের অর্থ সঠিক জায়গায় ব্যবহার হচ্ছে। এটাই সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব।”
বিরোধীদলের সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “সমালোচনা গঠনমূলক হলে তা গ্রহণযোগ্য, তবে শুধুমাত্র সমালোচনার জন্য সমালোচনা করা উচিত নয়। তার মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও সরকারকে কাজ করতে হচ্ছে, তাই ধৈর্য ও সহযোগিতার মনোভাব প্রয়োজন।”
তিনি অভিযোগ করেন, “অতীত সরকারের সময় অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে দেশের অবকাঠামো খাত, বিশেষ করে সড়ক ব্যবস্থায় অবনতি হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি উন্নয়নের চেষ্টা করছে।”
তিনি বলেন, “উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হওয়া উচিত। ভালো কাজের স্বীকৃতি দেওয়া এবং প্রয়োজনে গঠনমূলক সমালোচনা উভয়ই একটি গণতান্ত্রিক সংসদের অংশ।”
তিনি বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে বলেন, “রাজস্ব থেকে সংগৃহীত অর্থ সঠিকভাবে বণ্টন করা এবং কোনো ধরনের অপচয় বা লুটপাট না হওয়া নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তার মতে, উন্নয়ন পরিকল্পনার সফলতা নির্ভর করে প্রশাসনিক দক্ষতা ও স্বচ্ছতার ওপর।”