সারা বাংলা

নদী দখলমুক্ত ও পুনরুদ্ধারের দাবিতে পদযাত্রা

মুক্তেশ্বরী নদী দখলমুক্ত করা, স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলনের উদ্যোগে সোমবার পদযাত্রা করা হয়েছে। পদযাত্রাটি মুক্তেশ্বরী নদী থেকে শুরু হয়ে ভৈরব নদ পর্যন্ত অগ্রসর হয়।

পদযাত্রায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক আনিল বিশ্বাস এবং পরিচালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব রাশেদ খান।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলনের উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ, ভৈরব আন্দোলনের অন্যতম নেতা জিল্লুর রহমান ভিটু, মুক্তেশ্বরী আন্দোলনের অন্যতম নেতা আহসান উল্লাহ ময়না, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহামুদ হাসান বুলু, উদীচীর যশোর জেলার সভাপতি আমিনুর রহমান হিরু, ভবদহ আন্দোলনের অন্যতম নেতা অনিল বিশ্বাস, ভৈরব আন্দোলনের অন্যতম নেতা হাচিনুর রহমান এবং অ্যাডভোকেট আবুল কায়েস।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভৈরব আন্দোলনের উপদেষ্টা তসলিম-উর-রহমান, মিজানুর রহমান, ভাসানী পরিষদ যশোর জেলা আহ্বায়ক হারুন অর রশীদ, সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমান কবির, বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন, সাঈদ আহমদ নাসির শেফার্ড, যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির নেতা রিয়াদুর রহমান ও নওরোজ আলম খান চপলসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, নদী, মানুষ, পরিবেশ ও দেশকে রক্ষা করতে হলে সর্বপ্রথম নদীকে বাঁচাতে হবে। তারা অভিযোগ করেন, আদ-দ্বীনসহ প্রায় ২০টি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মুক্তেশ্বরী নদীর জমি দখল করে রয়েছে। জেলা প্রশাসনের তদন্তেও এ বিষয়টি উঠে এসেছে। তাই, অবিলম্বে সকল অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ করে নদীর জায়গা নদীকে ফিরিয়ে দিতে হবে এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

তাদের দাবি, মুক্তেশ্বরী নদীর সঙ্গে উজানে ভৈরব নদীর সংযোগ পুনঃস্থাপন করতে হবে। একইসঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য উজানে মাথাভাঙা নদীর সঙ্গে ভৈরব নদীর সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে। ভৈরব নদীর তীরে এখনো যেসব অবৈধ দখলদার অবস্থান করছে, তাদের দ্রুত উচ্ছেদের দাবি জানান তারা।

বক্তারা উল্লেখ করেন, ভবদহ অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে মুক্তেশ্বরী নদী খনন এবং ভৈরব নদীর সঙ্গে এর কার্যকর সংযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি। নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।

সমাবেশ থেকে মুক্তেশ্বরী ও ভৈরব নদী রক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।