অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের তাণ্ডব অব্যাহত রয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) সকালে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ও ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা অধিকৃত পশ্চিম তীরের একাধিক শহরে নতুন করে হামলা চালিয়েছে।
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আল-জাজিরার।
ওয়াফা-এর প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, গত কয়েক ঘণ্টায় বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে চালানো এই অভিযানে অন্তত এক ফিলিস্তিনি কিশোরী গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়াও ব্যাপক সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি ও যাতায়াত ব্যবস্থা বিঘ্নিত করার খবর পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার (১৭ জুন) পশ্চিম তীরের আল-মুগায়্যির শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান অভিযানের সময় তাজা গুলি ও গ্যাস ক্যানিস্টার নিক্ষেপ করা হয়। এতে কাঁধে গুলিবিদ্ধ হয়ে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে, তবে বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল। অভিযান চলাকালীন শহরের সব প্রবেশ ও প্রস্থান পথ অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
এছাড়া সালফিত শহরের আল-লুব্বান আশার্কিয়া সড়কে ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের দুটি গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ে জানালা ভেঙে দিয়েছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা।
আল-বিরহ শহরে স্থানীয় বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে সাউন্ড বোম, গ্যাস ক্যানিস্টার এবং তাজা গুলি ছুড়ে শহরে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এর ফলে স্থানীয় যানচলাচল সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।
রামাল্লার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত দেইর আবু মিশাল গ্রামে ইসরায়েলি বাহিনী তাজা গুলি ছুড়তে ছুড়তে প্রবেশ করেছে, তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
পূর্ব জেরুজালেমের আস-সাওয়াহিরা আল-শার্কিয়া শহরে বেশ কিছু আবাসিক বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে ভাঙচুর চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। তারা বাসিন্দাদের মারধর করে ও তাদের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে চলে যায়।
এদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের বৃহত্তম শহর হেব্রনে ফিলিস্তিনি পৌরসভা ও পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা বাতিলের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভার্সেন আগাবেতিয়ান শাহিন। তিনি ইসরায়েলের এই একতরফা ও উগ্র সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সম্প্রতি ইসরায়েলের উগ্র-ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ পবিত্র স্থানসহ হেব্রনের ফিলিস্তিনি পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা বাতিলের ঘোষণা দেন।
এর জবাবে বুধবার (১৭ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “হেব্রন বা অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের কোনো অংশের ওপরই ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই।”
তিনি আরো যোগ করেন, “ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদসহ হেব্রন পৌরসভার আইনি কর্তৃত্ব কেড়ে নেওয়ার স্মোট্রিচের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের একটি চরম ও নগ্ন লঙ্ঘন। এই অবৈধ সিদ্ধান্তের কোনো আন্তর্জাতিক বৈধতা নেই।”
উল্লেখ্য, ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ১৯৯৭ সালের ঐতিহাসিক ‘হেব্রন চুক্তি’ সম্পূর্ণ বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে হেব্রন শহরের সব নগর পরিকল্পনা ও নির্মাণ সংক্রান্ত ক্ষমতা ফিলিস্তিনি পৌরসভার হাত থেকে ইসরায়েলি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি, যা বর্তমান পরিস্থিতিকে আরো সংকটাপন্ন করে তুলেছে।