সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার উত্তরকুল সীমান্তে বাংলাদেশ ও ভারতীয় সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) গুলিতে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন এবং তার মরদেহ সীমান্তের ওপারে আটকে রাখা হয়েছে দাবি করছেন স্থানীয়রা। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জানা গেছে, নিখোঁজ যুবকের নাম ডিপজল আহমদ। তিনি জকিগঞ্জ উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের দিগালিগ্রাম এলাকার আহমদ আলীর ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, গত রবিবার রাতে ডিপজল আহমদসহ কয়েকজন যুবক সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। ফেরার পথে বিএসএফ সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে এবং গুলি চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় ডিপজলের সঙ্গে থাকা অন্যরা পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে এলেও তিনি আর ফেরেননি। তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা দাবি করেছেন, বিএসএফের গুলিতে ডিপজল নিহত হয়েছেন এবং তার মরদেহ সীমান্তের ওপারে রয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিখোঁজ যুবকের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় মঙ্গলবার (১৬ জুন) সীমান্ত এলাকা থেকে এক ভারতীয় কৃষককে তুলে এনে আটকে রাখা হয়। এ সময় তাকে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। পরে মঙ্গলবার রাতেই বিজিবির মাধ্যমে ওই ভারতীয় নাগরিককে বিএসএফের কাছে ফেরত দেওয়া হয়।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আব্দুল মুকিত বলেন, “সীমান্তের ওপারে কয়েকজন যুবক গেলে বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তিনজন ফিরে এলেও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। যারা ফিরে এসেছেন তারা দাবি করছেন, নিখোঁজ যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এবং মরদেহ আটকে রাখা হয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, “নিখোঁজ যুবককে ফেরত না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা একজন ভারতীয় নাগরিককে নিয়ে আসেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।”
বারঠাকুরী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মহসিন মর্তুজা চৌধুরী (টিপু) বলেন, “ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা ভারতীয় একজন নাগরিককে নিয়ে এসেছিলেন। পরে সন্ধ্যার দিকে বিজিবির মাধ্যমে তাকে ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে, নিখোঁজ বাংলাদেশি যুবকের বিষয়ে এখনো কোনো সুরাহা হয়নি। তিনি জীবিত নাকি মৃত, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।”
জকিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “সীমান্ত এলাকার লোকজন একজন বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যার দাবি করছেন। এ বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।”
এ বিষয়ে জানতে জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক মো. জুবায়ের আনোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, একটি জরুরি বৈঠকে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে পরে জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।