দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে জয় দিয়েই অভিযান শুরু করেছে অস্ট্রিয়া। তবে স্কোরলাইন যতটা স্বস্তির ইঙ্গিত দেয়, মাঠের লড়াই ছিল তার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলা জর্ডানও প্রথমে প্রতিরোধ গড়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের হার এড়াতে পারেনি তারা।
স্যান ফ্রান্সিসকোতে বাংলাদেশ সময় বুধবার (১৭ জুন) ‘জে’ গ্রুপের ম্যাচে অস্ট্রিয়ার হয়ে গোল করেন রোমানো শ্মিড ও মার্কো আর্নাউতোভিচ। অন্য গোলটি আসে জর্ডানের ইয়াজান আল আরবের আত্মঘাতী ভুলে। জর্ডানের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন আলি ওলওয়ান।
ম্যাচের শুরুতে দুই দলই কিছুটা সতর্ক ফুটবল খেললেও ২১তম মিনিটে প্রথম আঘাত হানে অস্ট্রিয়া। ডি-বক্সের বাইরে বল পেয়ে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে দূরের পোস্ট ঘেঁষে বল জালে জড়ান শ্মিড। জর্ডানের গোলরক্ষক ইয়াজিদ আবু লাইলা সেই শট ঠেকানোর সুযোগই পাননি।
দুই মিনিটের মধ্যেই সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল জর্ডান। তবে ওলওয়ানের জোরালো শট গোলরক্ষকের স্পর্শ নিয়ে ক্রসবারে লেগে বাইরে চলে যায়।
আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচে বিরতির পরই সমতা ফিরিয়ে আনে জর্ডান। ওলওয়ানের নেওয়া শট পোস্টের ভেতরের অংশে লেগে জালে ঢুকে যায়। অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষকের তখন কিছুই করার ছিল না। বাছাইপর্বে দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা এই ফরোয়ার্ডের পা থেকেই আসে বিশ্বকাপে জর্ডানের ইতিহাসের প্রথম গোল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মাঠে নামেন অস্ট্রিয়ার অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড আর্নাউতোভিচ। ৬৭তম মিনিটে তিনি বল জালে পাঠালেও হ্যান্ডবলের কারণে গোলটি বাতিল হয়। ভিএআরের পরামর্শে টিভি মনিটরে রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্ত নেন ম্যাচ কর্মকর্তা।
তবে ৭৬তম মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় অস্ট্রিয়া। কর্নার থেকে আসা বলে আর্নাউতোভিচ হেড করতে না পারলেও তার ঠিক পেছনে থাকা জর্ডানের ডিফেন্ডার ইয়াজান আল আরবের মাথায় লেগে বল জালে ঢুকে পড়ে।
পিছিয়ে পড়ার পর সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে জর্ডান। কিন্তু অস্ট্রিয়ার সংগঠিত রক্ষণভাগ ভেদ করতে ব্যর্থ হয় তারা। উল্টো যোগ করা সময়ের ১২তম মিনিটে আরেকটি গোল হজম করে দলটি। ভিএআরের সহায়তায় রিপ্লে দেখে আবু জারিকের হ্যান্ডবলের জন্য পেনাল্টি দেন রেফারি। স্পট কিক থেকে নির্ভুল শটে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন আর্নাউতোভিচ। সেই গোলেই নিশ্চিত হয় অস্ট্রিয়ার জয়।
১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের স্বাদ নিয়ে মাঠ ছাড়ে অস্ট্রিয়া। আর লড়াকু পারফরম্যান্স সত্ত্বেও অভিষেক ম্যাচে হার নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় জর্ডানকে।