সারা বাংলা

ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের জনজীবন

তীব্র গরমের সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বেড়েছে লোডশেডেং। গত শনিবার (১৩ জুন) থেকে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ, শিশু ও বয়স্কদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলা শহর দিন-রাত মিলিয়ে গড়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকছে। গ্রামাঞ্চলের পরিস্থিতি আরো খারাপ। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম থাকায় সময় ও স্থানভেদে লোডশেডিং করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

পৌর এলাকার বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন জানান, চলতি বছরের এপ্রিল মাসেও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের মুখে পড়তে হয়েছিল। গত শনিবার থেকে আবারো একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটায় জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দিনের বেলায় লোডশেডিং মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু মধ্যরাতে যখন বিদ্যুৎ চলে যায়, তখন শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে চরম কষ্টে পড়তে হয়। গরমে কারো চোখেই ঘুম থাকে না। চোখে ঘুম নিয়ে কাজে বাড়ির বাইরে বের হতে হয়।”

লোডশেডিংয়ের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালতেও। বিদ্যুৎ না থাকায় দাপ্তরিক কাজ ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রিন্ট করার মতো জরুরি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে, চলতি ফুটবল মৌসুমের ম্যাচগুলো দেখতে বসে চরম বিপাকে পড়েছেন হাজারো ফুটবলপ্রেমী। খেলা চলাকালীন হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় তাদের আনন্দ মাটি হচ্ছে।

পৌর এলাকার অক্টোমোড়ের লন্ড্রি ব্যবসায়ী সুজন জানান, স্বাভাবিক সময়ে তিনি দৈনিক প্রায় ১৫০টি জামা-কাপড় ইস্ত্রি (লন্ড্রি) করতেন। বর্তমানের লোডশেডিংয়ের কারণে তা নেমে এসেছে মাত্র ৪০ থেকে ৫০টিতে। বিদ্যুৎ না থাকায় সারাদিন বসে থাকতে হচ্ছে, যার ফলে তার আয়ের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এদিকে, চরম এই ভোগান্তি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে চলছে নানা ট্রল ও ক্ষোভ প্রকাশ। আব্দুর রশিদ নামের পৌর এলাকার এক বাসিন্দা নিজের ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, তার এলাকার বিদ্যুৎ ঠিক যেন হোমিওপ্যাথিক ডোজের ন্যায় ৩০ গুলি ১ ঘণ্টা পরপর। তিনি অন্যান্য এলাকার খবর জানতে চেয়ে রসিকতাও করেন।

বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি নিয়ে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিক্রয়-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আলিউল আজিম জানান, জেলা শহরে বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা ৩২ মেগাওয়াট। মঙ্গলবার (১৬ জুন) তারা সরবরাহ পেয়েছেন মাত্র ২২ থেকে ২৩ মেগাওয়াট। 

নেসকো বিক্রয়-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাদিকুল ইসলাম জানান, হুজরাপুর, নয়াগোলা ও বটতলাহাটের তিনটি সাবস্টেশনে মোট চাহিদা ৪১ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ২৪ থেকে ৩০ মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি থাকছে, যা এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে সমন্বয় করতে হচ্ছে।

একই পরিস্থিতি নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার মো. ফজলুর রহমান জানান, গত ১৩ জুন থেকে হরিপুর গ্রিড থেকে সরবরাহ কম পাওয়ায় মহানন্দা নদীর ওপারে লোডশেডিংয়ের মাত্রা কিছুটা বেশি। তবে, নদীর এপারে আমনুরা ও নাচোল এলাকায় লোডশেডিং তুলনামূলক অনেক কম।

তিনি জানান, বর্তমানে রাতের পিক-আওয়ারে তাদের চাহিদা ৭৫ মেগাওয়াট, যার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৫৩ থেকে ৫৪ মেগাওয়াট। তিনি আশাবাদী, খুব দ্রুতই জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এই সমস্যা সমাধান হবে।