ক্যাম্পাস

নিষ্পত্তি হওয়া অভিযোগে ফের তদন্ত, প্রশ্ন ঢাবি অধ্যাপকের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইবিএর অধ্যাপক মো. রিদওয়ানুল হকের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে ওঠা চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ সে সময় তদন্ত শেষে ভিত্তিহীন বলে বিবেচিত হয়েছিল। তবে সাত বছর পর একই অভিযোগে নতুন করে তদন্ত কমিটি গঠন করায় বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

ঢাবির বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) অধ্যাপক মুশতাক আহমদ ও অধ্যাপক মো. রিদওয়ানুল হকের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ ওঠে। ওই বছরের বোর্ড অব গভর্ন্যান্সের (বিজি) ১১৩ তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তৎকালীন প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) কে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে আরো ছিলেন তৎকালীন বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন এবং ফিন্যান্স বিভাগের একজন অধ্যাপক।

তদন্ত শেষে কমিটি মত দেয়, অস্ট্রেলিয়ায় জমা দেওয়া সংশ্লিষ্ট গবেষণাপত্রটি সংশোধন সাপেক্ষে প্রকাশের জন্য বিবেচিত হলেও তা চূড়ান্তভাবে গৃহীত বা প্রকাশিত হয়নি। কারণ, সংশ্লিষ্ট সাময়িকীতে গবেষণাপত্রটির কোনো খণ্ডসংখ্যা, সংখ্যাক্রম বা প্রকাশকাল উল্লেখ ছিল না। ফলে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। পরে তৎকালীন উপাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিজির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ওই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়।

তবে অভিযোগ রয়েছে, নিষ্পত্তি হওয়া বিষয়টি আবার সামনে এনে ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে কয়েকজন শিক্ষক অধ্যাপক মো. রিদওয়ানুল হকের বিরুদ্ধে পুনরায় অভিযোগ জমা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিনের মতামতের ভিত্তিতে এসএমটি সভায় বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য আইন উপদেষ্টার মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেই মতামতের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১৬ জুন) আইন অনুষদের ডিনকে আহ্বায়ক করে নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে, পূর্বে নিষ্পত্তি হওয়া একই অভিযোগে পুনরায় তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ও প্রশাসনিক পর্যায়ে মীমাংসিত একটি বিষয়ে পুনরায় তদন্ত কমিটি গঠন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে বিরল ঘটনা।

তাদের দাবি, বিজি অনুমোদিত কোনো সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার ক্ষেত্রে নতুন করে বোর্ডের সুস্পষ্ট অনুমোদন রয়েছে কি না, তা পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি ২০১৮ সালের তদন্তে বিবেচনায় না আসা নতুন কোনো তথ্য বা প্রমাণের ভিত্তিতে এই অনুসন্ধান শুরু হয়েছে কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য জানা যায়নি।

সংশ্লিষ্ট গবেষণাপত্রটির লেখক ছিলেন তিনজন। তবে পুনরায় দাখিল করা অভিযোগে শুধু অধ্যাপক মো. রিদওয়ানুল হকের নাম উল্লেখ করে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ কারণে বিষয়টিকে ব্যক্তিগত আক্রোশ বা প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ।

অধ্যাপক মো. রিদওয়ানুল হক বলেন, “বিজির সিদ্ধান্তে আমাকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই ঘটনার পর আট বছর ধরে আমি অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষাখাতে আমার অবদানের কারণে প্রতিহিংসাপরায়ণ কিছু স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে এই অভিযোগ এনেছে।”

তিনি আরো দাবি করেন, তার সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই নতুন করে এ অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।

তবে, এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিশেষজ্ঞের মতামতের ভিত্তিতেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।”