জাতীয়

স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন হবে: তথ্যমন্ত্রী

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেন, “সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে একটি ড্রাফট কমিটি গঠন করা হবে, যা একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান) প্রণয়ন করে সরকারের কাছে উপস্থাপন করবে। সেই কর্মপরিকল্পনার ভিত্তিতেই গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা হবে।”

বুধবার (১৭ জুন) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকালে উভয়পক্ষ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

এ সময় তথ্যমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। তবে স্বাধীনতার পাশাপাশি তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা ও জনস্বার্থও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই সরকার একদিকে যেমন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীন বিকাশ নিশ্চিত করতে চায়, অন্যদিকে জনগণকে ভুল তথ্য ও অপতথ্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকেও সুরক্ষা দিতে চায়।”

তিনি বলেন, “একটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য গণমাধ্যম কমিশন গঠনের জন্য সরকার অংশীজনভিত্তিক পরামর্শ প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে সাংবাদিক, গণমাধ্যম মালিক, সুশীল সমাজ, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত নিয়ে একটি ড্রাফট কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রণীত জাতীয় কর্মপরিকল্পনা সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে এবং সেই কর্মপরিকল্পনা অনুসারেই স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত সরকারের স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এ ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা বাংলাদেশ প্রয়োজনে কাজে লাগাতে পারে।”

তিনি কমিশন গঠন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আগ্রহের কথাও জানান।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে গণমাধ্যম উন্নয়ন, সাংবাদিকতার পেশাগত মানোন্নয়ন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং দায়িত্বশীল তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়।