বিশ্বকাপের সেরা দল ধরা হচ্ছে এবার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে। তাদের বিশ্বসেরা হওয়ার অভিযান শুরু হচ্ছে আজ (বুধবার, ১৭ জুন) রাতে, ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে। রোনালদোর বয়স ৪১, এটাই তার শেষ বিশ্বকাপ। ৫ বারের ব্যালন ডি-অর জয়ী এই প্লেয়ার নিঃসন্দেহে চাইবে সোনালী শিরোপাটায় জিততে। আর শেষ অভিযানে রোনালদোর অনুপ্রেরণা গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো সতীর্থ দিয়েগো জোতা!
২০২২ সালে রোনালদোর চিরপ্রতিদ্বন্দী লিওনেল মেসির হাতে বিশ্বকাপ উঠেছে, তাতে শোধ হয়েছে মেসির কাছে ফুটবলের ঋণ। এখন ফুটবলপ্রেমীরা তো ফুটবল দেবতার কাছে আর্জি ধরতেই পারেন যে এবার রোনালদো হাতে উঠুক শিরোপাটা। পর্তুগিজ মহাতারকার কাছেও যে ফুটবলের মেলা ঋণ!
রাত ১১টায় পর্তুগাল টেক্সাসের হিউস্টন স্টেডিয়ামের ৭২,০০০ দর্শকের সামনে খেল্বে পুঁচকে কঙ্গোর বিপক্ষে। মজার তথ্য হচ্ছে, ১৪৮২ সালে ডিয়েগো চিয়াও নামে এক পর্তুগিজ নাবিক প্রথম ইউরোপিয়ান হিসেবে কঙ্গো নদীর সন্ধান পান। তবে, নিজেদের আবিষ্কার করা দেশই আজ রবার্তো মার্তিনেজের শিষ্যদের জন্য মাথা ব্যাথার কারণ হতে পারে, কারণ প্রতিবেশী স্পেনের কাছ থেকে কেপ ভার্দে নামের অজানা এক দেশ যেভাবে পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়েছে তাতে বেশ সতর্ক থাকতে হবে পর্তুগিজদের।
যদিও যুদ্ধ জয়ে এসে বীর কি আর পঁচা শামুকে পা কাটার ভয়ে থাকতে পারে! পর্তুগালকে এবারের আসরের সেরা বলার যে কটি কারণ আছে তার মাঝে অন্যতম হচ্ছে দলটির মিডফিল্ড! পিএসজিকে টানা দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতানো জোয়াও নেভেস আর ভিতিনহা সামলাবেন সেলেসাওদের মধ্যমাঠ! সাথে আরও আছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের এক মৌসুমের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট করা মিডফিল্ডার ব্রুনো ফের্নান্দেস। আরও আছেন রুবেন নেভেস ও বের্নার্দো সিলভা। এমন মধ্যমাঠের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে ছড়ি ঘোরানোর সাধ্য কার?
অন্যদিকে নুনো মেন্দেসকে বিবেচনা করা হয় শেষ ১ দশকের মধ্যে সবচেয়ে প্রতিভাবান লেফট ব্যাক হিসেবে! রাইট ব্যাকে আছেন ক্যানসেলো এবং ম্যাথুস নুনেজের মতো বড় নাম। ম্যানসিটির নুনেজ আবার মধ্য মাঠেও দারুণ পারদর্শী। তবে একিলিস হিলের মতো পর্তুগালের দুর্বলতাও আছে। তাদের ফরোয়ার্ডদের অবস্থা নিয়ে স্বস্তিতে নেই স্প্যানিশ ম্যানেজার মার্তিনেজ। রোনালদো আর জোয়াও ফিলিক্স নিয়মিত গোলের দেখা পেয়েছেন সবশেষ মৌসুমে তবে সেটা সৌদি লিগে! অন্যদিকে তাদের উইঙ্গার যারা আছেন- রাফায়েল লিয়াও, পেদ্রো নেতো, কনসেইসাও কিংবা ফ্রানসিসকো ত্রিনকাও, এরা কেউই সেভাবে পার্থক্য গরে দিতে পারেন না সেটা লামিন ইয়ামাল, ভিনিসিয়ুস, সাকা, এমবাপে, ওলিস বা জামাল মুসিয়ালারা পারেন। অন্যদিকে এই ম্যাচে পর্তুগালকে নামতে হবে তাদের রক্ষণের সেনাপতি রুবেন ডিয়াসকে ছাড়াই।
তবে সব ভুলে রোনালদো কেবল খেলাটাই উপভোগ করতে পারেন।আজ রাতে কঙ্গোর বিপক্ষে মাঠে নামার সাথে সাথেই তিনি হয়ে যাবেন ফুটবল ইতিহাসের দ্বিতীয় খেলোয়াড় (প্রথম জন মেসি) যার ৬টি বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ড আছে। এদিকে মার্কিন মুলুকের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার কদিন আগেই হোয়াইটহাউজে আমন্ত্রণ করেছিলেন রোনালদোকে। সেখানে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার ছেলে ব্যারন রোনালদোর বড় ভক্ত! রোনালদোর শিরোপা জেতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ভালো দেশ আর কি হতে পারে!