সোনারগাঁয়ের পরকীয়ার ফাঁদে ফেলে দুই সন্তানের জননীকে আত্মহননের পথে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জনি নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ণ অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই গৃহবধূ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় মারা যান। এ ঘটনার পর জনির গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের দড়িগাঁও এলাকার প্রবাসী ইকবালের স্ত্রী ঝুমুর আক্তারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এলাহীনগর এলাকার বাসিন্দা জনি। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জনি দীর্ঘদিন সম্পর্ক বজায় রাখেন এবং প্রতারণার মাধ্যমে তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা লুটে নেন।
সর্বস্ব হারিয়ে রবিবার (১৪ জুন) বিয়ের দাবিতে জনির বাড়িতে অবস্থান নেন ঝুমুর। সেখানে চরম মানসিক নির্যাতন ও প্রতারণার শিকার হয়ে ক্ষোভে ও অভিমানে জনির বাড়িতেই শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মেয়ের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে কান্নায় ভেঙে পড়ে নিহতের বাবা বাসেদ মিয়া বলেন, জনি দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগ করে এখন রাতারাতি বিএনপি নেতা সেজে আমাদের ভয় দেখাচ্ছে। সে দম্ভ করে বলে ‘এমপি তোদের কী করবে? ঝামেলা করলে টাকা দিয়ে থানা থেকে বের হয়ে আসবো।’ এলাকার লোক দিয়ে আমাদের ভয় দেখানো হচ্ছে যেন মামলা না করি। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।
এ দিকে শম্ভুপুরা ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাবেদ আলী, ইউপি সদস্য শামীমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে ঘটনাটি আপস-মীমাংসা করার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেদ আলী সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। তবে ইউপি মেম্বার শামীম অন্যান্য মেম্বারদের নিয়ে বিষয়টি সমঝোতার চেষ্টা করছেন বলে শুনেছি।
ইউপি সদস্য শামীম পরকীয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ঝুমুরের সাথে জনির পরকীয়ার সম্পর্ক আছে বলে শুনেছি। বিষয়টি নিয়ে সমঝোতার কথা হয়েছে। তবে এটি আইনবহির্ভূত কিনা এমন প্রশ্নে শামীম সাংবাদিকদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
অভিযুক্ত জনি পুরো ঘটনা অস্বীকার করার চেষ্টা করলেও স্থানীয় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি উল্টো সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আপনি নিউজ করে কী করবেন, কইরেন।’
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার এ ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে বলেন, খবর পেয়েই পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই বিস্তারিত জানা যাবে। তবে এ ঘটনায় কোনো ধরনের আপস বা সমঝোতার সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।