জাতীয়

মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বসবে, বিবেচনায় ভারত সীমান্তও: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, “মিয়ানমার সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা, অনুপ্রবেশ, মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, আন্তঃসীমান্ত বিভিন্ন অপরাধ দমনের লক্ষ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ভারতের সাথে সীমান্তের স্পর্শকাতর স্থানেও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম বিবেচনাধীন রয়েছে।”

বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে এসব উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

প্রশ্নোত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,“দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থে এবং সীমান্ত এলাকায় সব ধরনের অপরাধ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।”

“সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ (আইস), ফেনসিডিলসহ সব ধরনের মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ প্রবেশ বন্ধে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ‘জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করছে বিজিবি। সেই সাথে, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির মাধ্যমে সীমান্ত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে,” বলেন মন্ত্রী।

এছাড়া, দুর্গম ও স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকাগুলোতে নতুন বিওপি ও টিওবি নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরো নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। নতুন বিওপি ও টিওবি নির্মাণের ফলে বিজিবির বিওপিসমূহের মধ্যবর্তী দূরত্ব কমিয়ে আনা এবং টহলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। সেগুলো হলো: দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের অতি সংবেদনশীল এলাকায় ইতিমধ্যে ‘স্মার্ট বর্ডার সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম' স্থাপন করা হয়েছে। দুর্গম পার্বত্য সীমান্তে সীমান্ত সড়ক নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে, যার ফলে বিজিবির টহল দল অত্যন্ত দ্রুততার সাথে যেকোনো সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে সক্ষম হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় বসবাসরতদের চোরাচালান ও অপরাধের কুফল সম্পর্কে সচেতন করতে এবং অপরাধীদের তথ্য দিয়ে বিজিবিকে সহায়তার জন্য নিয়মিত ‘জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম' পরিচালনা করা হচ্ছে।