সারা বাংলা

কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের মামলা বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে, দল থেকে বহিষ্কার

মাগুরায় এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে সদর উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মুক্ত মিয়া ও তার সহযোগী টিপু সুলতানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী মামলা করেন। তিনি মাগুরা সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী। 

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৭ এপ্রিল বিকেলে ভুক্তভোগীর মায়ের পরিচিত ব্যক্তি মুক্ত মিয়া (৪৫) তাকে মেলা দেখানোর কথা বলে মোটরসাইকেলে করে শহরের বাণিজ্য মেলায় নিয়ে যান। সেখানে অবস্থানকালে মুক্ত মিয়ার সহযোগী টিপু সুলতান (৪২) তাদের সঙ্গে যোগ দেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, সন্ধ্যার দিকে মুক্ত মিয়া তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে টিপু সুলতানের মোটরসাইকেলে তুলে দেন। তবে তাকে বাড়িতে না নিয়ে হাজীপুরে মুক্ত মিয়ার বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে দুধের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে জোর করে পান করানো হয়। পরে অচেতন অবস্থায় মুক্ত মিয়া তাকে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, পর দিন সকালে জ্ঞান ফেরার পর তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর ২৮ এপ্রিল বিকেলে টিপু সুলতান তাকে তার মায়ের বাসার কাছে নামিয়ে দিয়ে চলে যান।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাসায় ফিরে তিনি তার মাকে পুরো ঘটনা জানান এবং শরীরে নির্যাতনের বিভিন্ন চিহ্ন দেখান। তবে আসামিদের প্রভাব-প্রতিপত্তি ও বিভিন্ন ধরনের চাপের কারণে মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে।

অভিযোগে ভুক্তভোগী উল্লেখ করেন, বর্তমানে তিনি ও তার অসুস্থ মা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাদের কোনো ধরনের ক্ষতি হলে এর জন্য অভিযুক্তদের দায়ী করা হবে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এফআইআর গ্রহণের আবেদন করা হলে আদালত অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে মাগুরা সদর থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন।”

ঘটনার পরপরই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জেলা বিএনপি জানায়, হাজীপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মুক্ত মিয়াকে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহম্মেদ ও সদস্য সচিব মনোয়ার হোসেনের যৌথ সিদ্ধান্তে এ বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হয়। 

মামলার বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”