জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সার্ভারের নিরাপত্তা আরো জোরদার করতে ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ ও পূর্ণাঙ্গ আইটি অডিটের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের সার্ভার ও অ্যাপ্লিকেশনগুলোর সম্ভাব্য দুর্বলতা শনাক্ত করতে ভার্নারাবিলিটি অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড পেনেট্রেশন টেস্টিং (ভিএপিটি) পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৮ জুন) নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
জানা গেছে, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) নির্বাহী পরিচালককে পাঠানো এক চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলী মোহাম্মদ সোহাগ ভোটার নিবন্ধন সিস্টেমের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।
চিঠিতে বলা হয়, ভোটার নিবন্ধন সিস্টেমের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সম্ভাব্য সাইবার ঝুঁকি শনাক্ত করে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সার্ভার ও অ্যাপ্লিকেশনগুলোর ভিএপিটি সম্পাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ভিএপিটির মাধ্যমে সিস্টেমের নিরাপত্তাজনিত দুর্বলতা, সম্ভাব্য অনুপ্রবেশের পথ এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো শনাক্ত করা হবে। পরবর্তীতে এসব দুর্বলতা দূর করে এনআইডি অবকাঠামোর নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের আইটি সিস্টেমের পূর্ণাঙ্গ অডিট সম্পন্ন করার উদ্যোগও নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়ে আইটি ও জনসেবা অডিট অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠি দিয়েছেন ইসির প্রোগ্রামার মো. সেলিম উল আলম।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সরকারের আইটি ও জনসেবা অডিট অধিদপ্তরের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের আইটি সিস্টেমের অডিট সম্পন্ন করতে এর আগে বাংলাদেশ কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের (সিএজি) কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে একটি কমিটি গঠন করা হলেও পরবর্তীতে এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
ইসি জানিয়েছে, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন ব্যবস্থা একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামো। তাই এর নিরাপত্তা, কার্যকারিতা এবং তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত আইটি অডিট সম্পন্ন করা প্রয়োজন।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে দেশের প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের তথ্য এনআইডি ডাটাবেজে সংরক্ষিত রয়েছে। এসব তথ্যের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা এবং সম্ভাব্য সাইবার হামলা বা তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি মোকাবিলার লক্ষ্যে ভিএপিটি ও আইটি অডিটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।