সারা বাংলা

চার বছরেও শেষ হয়নি মধুমতির বাঁধ নির্মাণের কাজ

নড়াইলে মধুমতি নদীর পাড়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চার বছরেও শেষ হয়নি। ফলে বর্ষা মৌসুমে প্রায় ছয় হাজার একর জমির ফসল ও বসতবাড়ি প্লাবিত হতে পারে এমন শঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। তারা বলছেন, এখন পর্যন্ত যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে তাদের অনেকেই ক্ষতিপূরণের টাকা পাননি। যে কারণে ঠিকাদারের কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বলছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড পুরো জমি তাদের বুঝিয়ে দেয়নি। 

জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল থেকে ঘাঘার শেষ সীমানা পর্যন্ত (ধলইতলা) ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য একনেক সভায় অনুমোদন দেয় সরকার। স্থানীয়দের আপত্তি ও আদালতের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২০২৩ সালে প্রকল্পের কাজ শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসন।

২০২৫ সালের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দুই দফা সময় বাড়ানো হলেও কাজের অগ্রগতি খুবই কম। কিছু অংশে খনন কাজ ছাড়া দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে ১৬১ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন মাত্র ২৪ জন। বেড়িবাঁধ নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। 

ধলইতলা গ্রামের জমির মালিক কুটি গাজী বলেন, “জমির ক্ষতিপূরণ না পেলে কোনোভাবেই জমি থেকে মাটি কাটতে দেওয় হবে না। সরকার ক্ষতিপূরণ না দিয়ে জমিতে লাল পতাকা টানিয়ে মাটি কাটতে চায়। আমরা তা হতে দেব না।”

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মিলন আলী বলেন, “বেড়িবাঁধের কাজ নিয়ে আমরা খুবই বিপাকে আছি। এখনো পানি উন্নয়ন বোর্ড পুরো জমি আমাদের বুঝিয়ে দেয়নি। কাজ করতে গেলে স্থানীয়দের বাধার মুখে কাজ বন্ধ করতে হয়। তারা বলছেন, ক্ষতিপূরণ না পেলে কাজ করতে দেবে না। এ অবস্থায় কিছু অংশে কাজ করা যাচ্ছে, তবে, পুরো জমি বুঝে পেলে দ্রুক বাঁধের কাজ শেষ করা সম্ভব।”

নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে বলেন, “প্রকল্পটি ২০১৯ সালে হলেও আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০২২ সাল পর্যন্ত কোনো কাজ হয়নি। ২০২৩ সাল থেকে কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের বাধা ও জমি জটিলতার কারণে ঠিকাদার নিয়মিতভাবে কাজ করতে পারছেন না। লাল পতাকা দিয়ে জমি চিহ্নিত করা হলেও পরে তা তুলে ফেলছে স্থানীয় লোকজন। সমস্যা সমাধান হলে দ্রুত কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।”

নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হোসনে আরা তান্নি বলেন, “পানি উন্নয়ন বোর্ডকে একাধিকবার জমি চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে। ২৪ জন ক্ষতিগ্রস্তকে  যাচাই-বাছাই শেষে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করা হয়েছে। বাকিদের আবেদন ও কাগজপত্র যাচাই করে পর্যায়ক্রমে ক্ষতিপূরণের চেক দেওয়া হবে।”