জনগণের অর্থে নির্মিত জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষা এবং সেগুলোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি বলেন, “পদ্মা সেতু ও মেট্রোরেলের মতো দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে ঘিরে যেকোনো অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা বা দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হবে।”
বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শেখ রবিউল আলম বলেন, “সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাই আমাদের দায়িত্ব। সরকারের ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা রয়েছে এবং আমার মন্ত্রণালয়ের অনেক উদ্যোগ ইতোমধ্যে বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা ও জনগণের প্রত্যাশার মধ্যে কোথাও যদি ব্যবধান থাকে, তাহলে গণমাধ্যম সেটি তুলে ধরবে। আমরা সেই প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেই।”
মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে ভাসমান দোকান, ময়লা-আবর্জনা এবং অবকাঠামোর সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মেট্রোরেল কিংবা পদ্মা সেতু এগুলো নিঃসন্দেহে দেশের গর্বের স্থাপনা। এসব স্থাপনার সুরক্ষা ও সৌন্দর্য রক্ষা করা শুধু সরকারের নয়, সবার দায়িত্ব।”
পদ্মা সেতুর পিলারের নিচে মাটি কাটার প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, “পদ্মা সেতুর পিলারসংক্রান্ত যে বিষয়টি আপনারা তুলেছেন, সেটি আমাকে ব্যথিত করেছে। বিষয়টি আমি জেনেছি এবং আরো গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হয়েছে। দায়িত্বশীলভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
শেখ রবিউল আলম গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, “সাংবাদিকতা এখন আর নির্দিষ্ট কোনো গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে গণমাধ্যমের পরিধি ও প্রভাব অনেক বেড়েছে। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার প্রয়োজনীয়তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরার মাধ্যমে সাংবাদিকরা সরকারের কাজকে আরো কার্যকর করতে সহায়তা করেন। রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে গণমাধ্যমের এই ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
বিএসআরএফের সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপ সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।