সারা বাংলা

খুবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, যৌন হয়রানি ও অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী এক ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। বুধবার (১৮ জুন) বিকেলে অভিযোগটি তদন্তের জন্য যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের ৭ সদস্যের কমিটি কাজ শুরু করেছে। 

এ ঘটনার পর অধ্যাপক রেজাউল ইসলামকে এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ম্যাসেজ দিয়ে উত্ত্যক্ত করার প্রমাণসহ যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ করেন। 

অভিযোগে ভুক্তভোগী উল্লেখ করেন, শুরুতে অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম তাঁর সঙ্গে ভালো আচরণ করলেও ধীরে ধীরে ম্যাসেঞ্জারে ও হোয়াটসঅ্যাপে নানা ধরনের কুরুচিপূর্ণ ও অস্বস্তিকর বার্তা পাঠাতে শুরু করেন।

ভুক্তভোগী ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, “আমি ফেসবুকে তাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানোর পর দিনই তিনি তা গ্রহণ করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে বার্তা পাঠানো শুরু করেন। বিষয়টি আমাকে বিস্মিত করে। পরবর্তীতে তার পাঠানো বার্তাগুলো ক্রমে অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে আমি বিষয়টি আর সহ্য করতে না পেরে সহপাঠী ও ডিসিপ্লিনের প্রতিনিধিদের জানাই। কার্যকর পদক্ষেপ না দেখে পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।”

তিনি আরো বলেন, “একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ প্রত্যাশিত নয়। শুরুতে প্রভাবশালী এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পেলেও, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা প্রয়োজন মনে করে আমি সামনে এসেছি। আমি চাই, অন্য ভুক্তভোগীরাও সাহস করে কথা বলুক এবং এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার হোক, যাতে আর কোনো শিক্ষার্থীকে এই পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়।”

একই ডিসিপ্লিনের আরেক ছাত্রী অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অতীতে মৌখিক ও মানসিক হেনস্থার অভিযোগ তুলে বলেন, ‘‘প্রায় এক যুগ আগে যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এতটা জনপ্রিয় ছিল না, তখনো ক্লাসের সবার সামনে কিংবা গভীর রাতে ফোন ও ম্যাসেজে ছাত্রীদের (বিশেষ করে বিবাহিত ছাত্রীদের) নানা ধরনের আপত্তিকর ও অস্বস্তিকর প্রশ্ন করতেন এই শিক্ষক।’’ 

এই ঘটনা সামনে আসার পরে এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের আরো দুইজন ভুক্তভোগী ছাত্রী হেনস্তার কথা জানান। ওই শিক্ষকের কথায় সাই না দিলে শিক্ষার্থীরা তাঁর ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হয় বলে জানান ভুক্তভোগী ছাত্রীরা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রফেসর মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এ সব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক। তিনি বলেন, “গত ফেরুয়ারিতে আমার মোবাইল ফোনটি চুরি হয়ে যায়। এরপর থেকে আমি আমার ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দিয়েছি। এই বিষয়ে থানায় জিডি করা হলেও এখনো ফোনটি উদ্ধার হয়নি।’’ 

তিনি আরো বলেন, ‘‘ডিসিপ্লিনের প্রধান হিসেবে আমি অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি এবং শিক্ষার্থীদের কিছু নিয়মের বাইরে যেতে বাধা দিয়েছি। মূলত ঈর্ষা ও শত্রুতা থেকে আমার বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি মহল।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের সভাপতি তাসলিমা খাতুন অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তদন্তের জন্য জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে। সভার সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেবে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশিদ খাঁন বলেন, ডিনদের সঙ্গে বৈঠক করে অভিযুক্ত শিক্ষককে ডিসিপ্লিন প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে বাকি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।