সারা বাংলা

গণভোটের রায় সংসদে বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে ফায়সালা: গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে রাজনৈতিক বিতর্কের নিষ্পত্তি সংসদে চায় জামায়াত, না হলে রাজপথে ফয়সালা হবে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে জরুরি প্রেস ব্রিফিং-এ তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি আগামী ২০ জুন খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ এবং পরে ঢাকায় ১১ দলের জরুরি বৈঠক থেকে পরবর্তী আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার কথা জানান।  

প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আমরা রাজপথে নামতে চাই না। চাই সংসদেই সব কিছু সমাধান করতে। কিন্তু সরকার আমাদের বাধ্য করলে রাজপথই হবে চূড়ান্ত জায়গা। কারণ প্রেম এক তরফা হয় না।”

সীমান্তে পুশইন সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের এই নেতা বলেন, এ নিয়ে সংসদে একজন এমপি নোটিশ দিয়ে কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে সেটি প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়েছে। এতেই প্রমাণ হয় কোথা থেকে কি হচ্ছে। কেউ আমাদের ওপর দাদাগিরি করে আধিপত্যবাদের সেবাদাস বানাক সেটি আমরা চাই না। সব বিভাগের সমাবেশ শেষ হলে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। 

ব্রিফিংয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে দলীয়করণের নজির আমরা দেখেছি। কিন্তু এখন তো আরও বেশি দেখছি। স্থানীয় সরকার বিভাগের সব নিয়মকে তোয়াক্কা না করে সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ এমনকি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষেও প্রশাসক বসিয়ে দলীয়করণের নজির স্থাপন করা হয়েছে। এখন তো দেখছি বিএনপির শ্লোগান পরিবর্তন করা উচিত- ‘সবার আগে বাংলাদেশ নয়, সবার আগে বিএনপি’ শ্লোগান হওয়া উচিত।

তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইন-শৃঙ্খলার চরম বিপর্যয়, একচ্ছত্র দলীয়করণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ সার্বিক জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। 

মিয়া গোলাম পরওয়ার তার বক্তব্যে বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে তরুণ প্রজন্মের হাজারো শহিদের রক্ত এবং ত্যাগ ও রক্তক্ষয়ী স্মৃতির বিনিময়ে দেশের ১৮ কোটি মানুষ একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা করেছিল। সেই রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে দীর্ঘ ৯ মাস ধরে বিএনপি ও জামায়াতসহ ৩৩টি রাজনৈতিক দল দফায় দফায় বৈঠক করে ৮৪টি সাংবিধানিক, আইনি ও প্রশাসনিক বিষয়ে একমত হয়ে ‘জুলাই সনদ’ তৈরি করেছিল।

বিগত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে প্রায় ৫ কোটি মানুষ (৭০ শতাংশ ভোটার) কোনো নোট অব ডিসেন্ট বা দ্বিমত ছাড়াই জুলাই সনদের পক্ষে হ্যাঁ ভোট দিয়ে একে গ্রহণ করেন। নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা এই সনদের পক্ষে সারা দেশে ক্যাম্পেইন করেছিলেন। কিন্তু ক্ষমতায় বসার পর তারা ১৮০ ডিগ্রি ইউটার্ন নিয়ে বলছেন যে, এই গণভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ নাকি বেআইনি ও সংবিধান পরিপন্থী।

তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন দল এখন কাঠামোগত সংস্কার না করে কেবল নিজেদের ইচ্ছামতো কিছু সংশোধন করতে চায়। প্রধানমন্ত্রীর সীমাহীন ক্ষমতার লাগাম টানা, উচ্চ কক্ষের আসন ভাগাভাগিতে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা  চালু করা এবং বিচার বিভাগ ও সাংবিধানিক পদগুলোতে নিরপেক্ষ নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাবগুলো থেকে বিএনপি এখন মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিদ্যমান ব্যবস্থার সংস্কার না হলে যারাই প্রধানমন্ত্রী হবেন, তারাই আরেকটা শেখ হাসিনা হয়ে দেশের ওপর ফ্যাসিবাদী শাসন চাপিয়ে দেবেন। 

আগামী ২০ জুন অনুষ্ঠিতব্য সমাবেশ বাস্তবায়নের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাহ আলমের পরিচালনায় এ সময় সভাপতির বক্তব্য রাখেন সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব,  খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। 

এ সময় খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাস্টার শফিকুল আলম, জাতীয় নাগরিক পার্টির খুলনা মহানগর সংগঠক আহম্মদ হামিম রাহাত, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক  ও মহানগর সভাপতি মুফতি শরীফ সাঈদুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

প্রেস ব্রিফিং শেষে মিয়া গোলাম পরওয়ার ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দদের নিয়ে নগরীর স্যার ইকবাল রোড, পিকচার প্যালেস মোড়, বাংলাদেশ ব্যাংকের মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে সমাবেশের লিফলেট বিতরণ করেন। পরে তারা সার্কিট হাউজ মাঠে সমাবেশের জন্য নির্মাণাধীন মঞ্চ পরিদর্শন করেন।