বিনোদন

পঁচাত্তরে এসে ষাটে বিয়ে করার কারণ জানালেন অভিনেত্রী

‘লগান’, ‘যোধা আকবর’খ্যাত অভিনেত্রী সুহাসিনী মুলে। ২০১১ সালে ষাট বছর বয়সে বিজ্ঞানী অতুল গুর্তুকে বিয়ে করেন তিনি। তার পূর্ব পর্যন্ত অবিবাহিত ছিলেন সুহাসিনী। বিয়ের পরও কেটে গেছে দেড় দশক। পঁচাত্তর বছর বয়সে এসে ষাটে বিয়ে করার কারণ জানালেন এই অভিনেত্রী।  

সুহানা সাফারের অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে বিয়ে নিয়ে কথা বলেন সুহাসিনী মৌলি বলেন, “আমি ৬০ বছর বয়সে প্রথম বিয়ে করি। তার আগে সঠিক মানুষটিকে খুঁজে পাইনি। আমার স্বামী অত্যন্ত খ্যাতিমান একজন বিজ্ঞানী। সে যখন বিজ্ঞান নিয়ে কথা বলে, আমি তার কিছুই বুঝি না। কিন্তু সে অসাধারণ একজন মানুষ।”

যেভাবে পরিচয় সুহাসিনী-অতুলের সুহাসিনী তার এক সহশিল্পীর পরামর্শে ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খুলেন। মূল উদ্দেশ্য ছিল, কাজের সুযোগ পাওয়া। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বদলে যায়, ফেসবুকে দেখা পান বিজ্ঞানী অতুল গুর্তুর। স্মৃতিচারণ করে সুহাসিনী বলেন, “আমি অতুলের প্রোফাইল দেখে ভাবলাম, ‘পদার্থবিজ্ঞানীরও ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট আছে?’ অতুল তখন ‘লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডা’ (এলএইচসি) প্রকল্পের কাজ করছিলেন। বিজ্ঞান নিয়ে আমার সবসময় আগ্রহ ছিল, তাই তাকে মেসেজে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ‘এলএইচসি কী?”

এরপর দুজনের মধ্যে ই-মেইলে যোগাযোগ শুরু হয়। এক পর্যায়ে অতুল জানান, তিনি একজন জীবনসঙ্গী খুঁজছেন। এসব তথ্য উল্লেখ করে সুহাসিনী বলেন, “অতুল কখনো সরাসরি কিছু বলেনি। কিন্তু ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। যখন বুঝলাম অতুল কাউকে খুঁজছেন, তখন মনে মনে হেসেছিলাম। ভাবলাম, ‘৬০ বছরেও যখন সঠিক মানুষটিকে খুঁজে পাইনি, এখন হঠাৎ করে কীভাবে পাব?”

দ্বিধায় ছিলেন সুহাসিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া প্রোফাইলের সংখ্যা অনেক হওয়ায় সুহাসিনী শুরুতে সতর্ক ছিলেন। অতুল যখন তার ফোন নম্বর চান, তখন তিনি এক বন্ধুর পরামর্শ নেন। সুহাসিনী বলেন, “আমার বন্ধু বলেছিল, ‘এই বয়সে সম্ভাবনার সংখ্যা তো আরো কমে যায়। দরজা খোলার আগেই সেটা বন্ধ করে দিও না। যদি তাকে ভালো না লাগে, তাহলে সরে আসবে। চেষ্টা করতে কোনো ক্ষতি নেই’। অতুল যখন আমার নম্বর চাইল, আমি বলেছিলাম, ‘ভদ্র মেয়েরা অচেনা লোককে ফোন নম্বর দেয় না। মানুষ তো নকল প্রোফাইলও তৈরি করে।”

অতুল যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন, সেখানে তার তথ্য যাচাই করে দেখেন সুহাসিনী। অতুলের সব তথ্য সঠিক ছিল। তার বন্ধুও সুহাসিনীকে বলেছিলেন, ‘এতদিন একা থাকার পর এখন তাকে কে থামাচ্ছে?’ 

প্রথম দেখার স্মৃতি সুহাসিনী-অতুল দেখা করার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু তা হয়নি। শেষ পর্যন্ত দীপাবলির সময় তাদের প্রথম সাক্ষাৎ হয়। তখনো ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করে পৌঁছেছিলেন সুহাসিনী। কারণ আগে নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন ছবিতে দেখা মানুষটিই বাস্তবে এসেছেন কি না! একবার দেখা হওয়ার পর সম্পর্ক দ্রুত এগিয়ে যায় বলে জানান সুহাসিনী। এ অভিনেত্রীর ভাষায়—“নভেম্বরের শেষ দিকে আমাদের দেখা হয়। আমরা অনেক কথা বলেছিলাম। ১৬ জানুয়ারির মধ্যে আমরা বিয়ে করে ফেলি। একবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর অপেক্ষা করার কোনো মানে ছিল না।” 

সুহাসিনীর মায়ের বিস্ময় ষাট বছর বয়সে একজন মানুষকে খুঁজে পাওয়ার কথা সুহাসিনী তার মাকে জানান। কিন্তু তার মা প্রথমে কথাটি বিশ্বাসই করতে পারেননি। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য তার মা তাকে একাধিকবার ফোন করে কথা বলেন। পরে সুহাসিনীকে তার মা বলেন, “তুমি একজন বুদ্ধিমান মানুষ খুঁজে পেয়েছো।” মূলত, সুহাসিনীর মা অতুলের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, ৬০ বছর বয়সে কেন বিয়ে করতে চান? এ প্রশ্নের উত্তরে অতুল যা বলেছিলেন, তা তাকে ভীষণ মুগ্ধ করেছিল। অতুল বলেছিলেন—“সুহাসিনী সারাজীবন একা থেকেছে, চাইলে ভবিষ্যতেও একা থাকতে পারবে। আমিও একা থাকতে পারি। কিন্তু আমি সুখকে একটা সুযোগ দিতে চাই। যদি সম্পর্কটা ভালো না চলে, তাহলে স্বীকার করে নেব যে, আমরা ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।”

*ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে