মধ্যপ্রাচ্যে সব ফন্টে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র একদিনের মাথায় দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন ও বিমান হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আল-জাজিরার।
এনএনএ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার কাফর তিবনিত শহরের কাছে একটি গাড়ি লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। জাবাদিন এলাকায় পৃথক আরেকটি ইসরায়েলি হামলায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন।
এছাড়াও নাবাতিহ গভর্নরেটের বেইত ইয়াহুন শহরে ইসরায়েলি ড্রোনের আরেকটি হামলায় অন্তত দুজন আহত হয়েছেন।
এই হামলাগুলো এমন এক সময়ে ঘটল যখন ইসরায়েল লেবাননে তার আক্রমণ বন্ধ করতে এবং যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর জন্য মার্কিন-ইরান চুক্তির অংশ হিসেবে তার সব দখলদার বাহিনীকে প্রত্যাহার করার চাপের মুখে রয়েছে।
তবে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বৃহস্পতিবার একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে, যেখানে লেবাননের ভূখণ্ডের ভেতরে প্রায় ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত তাদের বাহিনীর বর্তমান অবস্থান দেখানো হয়েছে। এটি তাদের ‘হলুদ রেখা’ বরাবর অবস্থিত। এই ব্যবস্থাটি অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের নেওয়া সামরিক কৌশলের অনুরূপ।
সামুদ্রিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মানচিত্রটি কেবল লেবাননের ভূখণ্ডই নয়, দেশটির সামুদ্রিক সীমানাকেও স্পর্শ করেছে। ইসরায়েল যদি এই অঞ্চল দখল করে, তাহলে তা ২০২২ সালের লেবানন-ইসরায়েল সামুদ্রিক চুক্তি লঙ্ঘন করবে। সমুদ্রের এই অংশে লেবাননের ‘কানা গ্যাস প্রকল্প’ অবস্থিত, যার অনুসন্ধানের অধিকার ২০২২ সালে মার্কিন মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে হওয়া সামুদ্রিক সীমান্ত চুক্তির অধীনে স্পষ্টভাবেই লেবাননকে দেওয়া হয়েছিল।
নেতানিয়াহুর ওপর ঘরোয়া চাপ
এদিকে মার্কিন প্রশাসনের ওপর ক্ষুব্ধ ইসরায়েলের ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির নেতারা। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আরো কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দলের প্রভাবশালী নেতা মোশে সাদা।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর উচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে স্পষ্ট ভাষায় ‘যথেষ্ট হয়েছে’ বলে দেওয়া। এই মুহূর্তে লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করা ইসরায়েলের জন্য অস্তিত্বের সংকট তৈরি করবে। আমাদের দায়িত্ব হলো লেবাননের সর্বত্র, সার্বক্ষণিক এবং কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আঘাত হানা।”
আল-জাজিরার বৈরুত সংবাদাতা জেইনা খোদর জানান, “সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দক্ষিণ লেবাননজুড়ে আমরা আর আগের মতো তীব্র ইসরায়েলি বোমা হামলা দেখছি না। তবে গত কয়েক দিন ধরে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে হতাহতের ঘটনা ঘটছে।”
খোদর বলেন, “(যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার) এই চুক্তির ফলে হিজবুল্লাহ নিজেদের খুব শক্তিশালী মনে করছে। তারা বিশ্বাস করে যে, ইরান তাদের (ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা আঘাত হানার) সুবিধা এনে দিয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, “হিজবুল্লাহ এই হামলাগুলোর জবাব দিচ্ছে এবং একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, তারা কোনো একতরফা যুদ্ধবিরতি মেনে নেবে না। প্রকৃতপক্ষে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী স্বীকার করেছে যে, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর দুটি হামলায় তাদের একজন সেনা নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। হিজবুল্লাহ লেবানন সরকারকে জানিয়ে দিচ্ছে যে, তারা অস্ত্র সমর্পণ করবে না।”