খেলাধুলা

রোনালদোর জন্যই কি পর্তুগালের বাজে পারফরম্যান্সের করছে?

ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছে পর্তুগাল। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন আলোচনায় পরিচিত একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জন্যই কি পর্তুগালের এই দশা? 

এটা নতুন কিছু নয়। পর্তুগাল প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন রোনালদো। বয়স, নেতৃত্ব, গোলসংখ্যা কিংবা মাঠের প্রভাব, সবকিছু নিয়েই শুরু হয় বিতর্ক। কিন্তু কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচটি দেখে একটি প্রশ্ন উঠতেই পারে- পর্তুগালের সমস্যাটা কি সত্যিই রোনালদো?

বর্তমান পর্তুগাল দলটিকে কাগজে-কলমে দেখলে বিশ্বকাপের অন্যতম শক্তিশালী স্কোয়াড বলতেই হয়। মাঝমাঠে আছে ভিতিনহা ও জোয়াও নেভেস, যাদের এই সময়ের সেরা সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে বিবেচনা করা হত। টানা দুই মৌসুমে ইউরোপের ক্লাব পর্যায়ের সর্বোচ্চ শিরোপা চ্যাম্পিয়নস লিগ অর্জনে পিএসজিকে সরাসরি সাহায্য করেছে তারা।

ব্রুনো ফের্নান্দেজ দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপের অন্যতম সৃজনশীল মিডফিল্ডার। এই মৌসুমে তিনি ইংলিশ লিগের এক ক্যালেন্ডারে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ড গড়েছেন যা এতদিন ছিল থিয়ে অঁরির দখলে। নুনো মেন্ডেসকে বিশ্বের সেরা লেফট-ব্যাকদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জোয়াও ক্যানসেলো, পেদ্রো নেতোসহ আরও কয়েকজন আক্রমণাত্মক ফুটবলারের উপস্থিতিও আছে পর্তুগালে।

কিন্তু কঙ্গোর বিপক্ষে মাঠের চিত্র ছিল ভিন্ন। পর্তুগালের মিডফিল্ডে ছিল বলের দখল, ছিল পাসের আধিপত্যও। কিন্তু শেষ তৃতীয়াংশে গিয়ে যেন হারিয়ে যাচ্ছিল সব ধার। প্রতিপক্ষের রক্ষণ চিরে দেওয়ার মতো পাস ছিল না, আক্রমণভাগকে নিয়মিত বিপজ্জনক অবস্থানে নেওয়ার মতো সৃজনশীলতাও দেখা যায়নি প্রত্যাশিত মাত্রায়। দুই প্রান্ত থেকেও পর্যাপ্ত মানসম্পন্ন সরবরাহ আসেনি। ফলে প্রশ্ন উঠতেই পারে, যদি রোনালদোকে দায়ী করা হয়, তাহলে বল তার কাছে পৌঁছানোর দায়িত্ব যাদের, তাদের পারফরম্যান্স নিয়েও কি সমান আলোচনা হওয়া উচিত নয়?

একজন স্ট্রাইকারের প্রভাব অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আধুনিক ফুটবলে একজন ফরোয়ার্ডকে বিচ্ছিন্ন করে বিচার করাও কঠিন। বিশেষ করে যখন তার পেছনে খেলছেন ইউরোপের সবচেয়ে আলোচিত মিডফিল্ডার ও ফুল-ব্যাকরা।

আর এখানেই এসে আলোচনায় চলে আসছেন দলটির কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। স্প্যানিশ এই কোচের বিরুদ্ধে সমালোচনা নতুন নয়। বেলজিয়ামের তথাকথিত ‘গোল্ডেন জেনারেশন’ অর্থাৎ কেভিন ডি ব্রুইনা, এইডিন হ্যাজার্ড, রোমেলু লুকাকু, থিবো কোর্তোয়া, ইয়ান ভর্তোঙ্গেনদের মতো তারকায় ভরা দল নিয়েও বড় কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা জিততে পারেননি তিনি।

এখন পর্তুগালেও তার হাতে আছে অসাধারণ প্রতিভাবান একটি স্কোয়াড। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই প্রতিভাগুলো কি দল হিসেবে নিজেদের সর্বোচ্চটা দিতে পারছে? মার্তিনেজের কৌশল কি আসলে? কেন ক্ষুরধার সব ফুটবলাররা তার কৌশলে হয়ে যায় বিবর্ণ?

বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে হোঁচট খাওয়া মানেই বিপর্যয় নয়। অনেক চ্যাম্পিয়ন দলই ধীরগতিতে শুরু করেছে। তবে উদ্বেগের জায়গা হলো ফল নয়, খেলার ধরন। কারণ পর্তুগালের সমস্যা শুধু গোল না পাওয়া হলে সেটি এক ধরনের সমস্যা। কিন্তু যদি দলের সবচেয়ে সৃজনশীল খেলোয়াড়রাই নিজেদের স্বাভাবিক প্রভাব রাখতে না পারেন, তাহলে সেটি অবশ্যই মার্তিনেজের কৌশলগত প্রশ্নও তৈরি করে।

তাই কঙ্গোর বিপক্ষে ড্রয়ের পর আলোচনাটা হয়তো শুধু রোনালদোকে ঘিরে হওয়াটা ভুল। বরং প্রশ্নটা হতে পারে আরও বড়। এত প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া একটি দল কেন নিজেদের সামর্থ্যের পুরোটা দেখাতে পারছে না? আর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আঙুলটা ডাগআউটের দিকেই যাবে বারবার।