খেলাধুলা

কানাডার ঝড় নাকি কাতারের দেয়াল?

কানাডার বল নিয়ন্ত্রণ বল নিয়ন্ত্রণ ও মুহুর্মুহু আক্রমণ, অন্যদিকে কাতারের জমাট রক্ষণ ও কাউন্টার অ্যাটাকের লড়াই। জমজমাট একটা স্নায়ুযুদ্ধের আভাস।  ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘বি’-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে ভ্যাঙ্কুভারের বিখ্যাত বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে কানাডা ও কাতার। ৫৪,৫00 দর্শক ধারণক্ষমতার এই মাঠটি গতিময় উইং প্লে-র জন্য দারুণ পরিচিত। প্রথম ম্যাচে দুই দলই একটি করে গোল করেছে এবং একটি করে হজম করেছে। ফলে দ্বিতীয় রাউন্ডের এই লড়াইটি যেমন কৌশলের, তেমনই অস্তিত্বের।

টানা ৯ ম্যাচ অপরাজিত থাকা কানাডা প্রথম ম্যাচে পজেশন রেখেছিল ৬১%। প্রতিপক্ষের বক্সে একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে ১৩টি শট নেয়, যার ৪টি ছিল লক্ষ্যে। ৯টি কর্নার আদায়ের পাশাপাশি একবার বল লেগেছিল পোস্টে। ৪২১টি পাসের ২৬৩টিই তারা খেলেছে প্রতিপক্ষের অর্ধে এবং ক্রস করেছে ২৪টি, যদিও সঠিক ছিল মাত্র ৫টি। তবে মাটির লড়াইয়ে ৫৮.১% ডুয়েল জিতলেও এরিয়ালে তাদের সাফল্য ছিল মাত্র ৩২.৮%। সাম্প্রতিক ১০ ম্যাচের ৯টিতেই তাদের স্কোরলাইন ছিল ২.৫ গোলের কম।

বিপরীতে কাতার যেন এক দুর্ভেদ্য দেয়াল। প্রথম ম্যাচে মাত্র ৩২% বলের দখল নিয়েও ৩১টি ক্লিয়ারেন্স ও গোলরক্ষকের ৫টি চমৎকার সেভ। পেনাল্টি থেকে ১টি গোল হজম করলেও তাদের কাউন্টার অ্যাটাকিং ফুটবল ছিল দেখার মতো। ২৭৮টি পাসের ৭১.৯% সফল ছিল, যার মধ্যে ৫১টিই ছিল লং বল। দলের প্রধান অস্ত্র আকরাম আফিফ ২টি কী পাস দিয়ে আলো কেড়েছেন।  যদিও কাতার টানা ৭ ম্যাচ জয়হীন, তবুও তাদের লড়াকু মানসিকতা যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য ভয়ের কারণ।

২০২২ সালের একমাত্র প্রীতি ম্যাচে কানাডা ২-০ গোলে জিতেছিল। উচ্চ গতি ও প্রেসিং ফুটবল ছিল তাদের শক্তির জায়গা। এই টুর্নামেন্টে কানাডা মাঠে নামছে ৪-৪-২ ছকে। অন্যদিকে কাতার ৪-৩-৩ ফরমেশনে ডিফেন্সে জোর দিচ্ছে। প্রথম ম্যাচে পেদ্রো মিগেল, বুয়ালেম খৌখি ও ইসা লায়ে মিলে ২১টি ক্লিয়ারেন্স করেছেন। তাদের মূল পরিকল্পনা হলো রক্ষণ সামলে আকরাম আফিফ ও এডমিলসন জুনিয়রের গতিকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে যাওয়া।

নজরে থাকবেন যাঁরা

কানাডার প্রথম ম্যাচের তারকা রিচি লারেয়া। ৫টি ট্যাকল, ২টি সফল ড্রিবল ও ঘণ্টায় ৩৪.৫৫ কিলোমিটার গতিতে উইং কাঁপানো এই ডিফেন্ডার কানাডার আক্রমণের অন্যতম সেরা অস্ত্র।

কাতারের ভরসার সাম পেদ্রো মিগেল। দলের রক্ষণভাগের মূল চালিকাশক্তি। প্রথম ম্যাচে ৯টি ক্লিয়ারেন্স ও ৫টি নিখুঁত লং বল দিয়ে তিনি প্রতিপক্ষের আক্রমণ একাই নসাৎ করেছেন।

যদি কানাডা তাদের উইং প্লে ও বক্সের ভেতরের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারে, তাহলে আসতে পারে স্বস্তির জয়। তবে, কাতারের রক্ষণ যদি আবারও দেয়াল হয়ে দাঁড়ায় এবং আফিফ বা এডমিলসন জুনিয়র সুযোগ পেয়ে যান, তাহলে বদলে যেতে পারে ম্যাচের ভাগ্য। গ্রুপ ‘বি’-এর এই ম্যাচ তাই দুই দলের ফুটবল দর্শনের এক বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।