আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালি পার হতে এখনো অনুমতি নেওয়া লাগবে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরদিনই ইরান জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে এখনও তেহরানের সঙ্গে সমন্বয় রাখতে হবে। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। খবর তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এখনো এই শর্ত বহাল রেখেছে যে, যেসব জাহাজ এই জলপথ অতিক্রম করতে চায়, তাদের অবশ্যই ইরানি নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার (১৭ ‍জুন) একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছেন, যার উদ্দেশ্য ছিল গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধের অবসান ঘটানো।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা চুক্তির শর্তাবলী প্রকাশ করে জানিয়েছে, “পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ ও বিনামূল্যে চলাচলের বিষয়টি নিশ্চিত করতে আগামী ৬০ দিনের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে তেহরান।”

দলিলটিতে বলা হয়েছে, “বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অবিলম্বে পুনরায় শুরু হবে এবং ইরানের পক্ষ থেকে প্রযুক্তিগত ও সামরিক প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং মাইন-অপসারণ অভিযান সাপেক্ষে ৩০ দিনের মধ্যেে এই রুটটি সম্পূর্ণভাবে সচল করা হবে। ইরান প্রযোজ্য আন্তর্জাতিক আইন এবং উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌম অধিকার মেনে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা ও সামুদ্রিক সেবার বিষয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা করবে এবং পারস্য উপসাগরের অন্যান্য উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গেও পরামর্শ করবে।”

এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে তাদের নৌ অবরোধ তুলে নেবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পরপরই তেহরান কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে গত ১৩ এপ্রিল মার্কিন বাহিনী ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ আরোপ করে। দুই পক্ষের এই সংঘাতের ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যিক জলপথ দিয়ে সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।