১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দেশটির মন্ত্রীসভায় এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রথম কোনো আরব দেশ হিসেবে শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে এমন কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করল ইউএই। খবর আনাদোলুর।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউএই-র এই সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে এলো, যখন মিশরসহ বেশ কয়েকটি আরব দেশও একই ধরনের নিয়মকানুন কার্যকরের কথা ভাবছে। মিশর অবশ্য কয়েক মাস আগেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল।
বৃহস্পতিবার ইউএই-র মন্ত্রিসভা জানায়, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার এবং এর সঙ্গে জড়িত নানা ঝুঁকি থেকে শিশুদের রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অনুপযুক্ত কন্টেন্টের সংস্পর্শে আসা, অনিরাপদ যোগাযোগ, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি এবং প্রযুক্তির অতিরিক্ত আসক্তি নিয়ন্ত্রণ করাই এই আইনের মূল লক্ষ্য।
এই নিয়মাবলী এমন সব সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মের ওপর প্রযোজ্য হবে যা ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট বা প্রোফাইল তৈরি করতে, অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে, কন্টেন্ট প্রকাশ বা শেয়ার করতে অনুমতি দেয় অথবা কন্টেন্ট প্রদর্শন, র্যাংক বা সুপারিশ করার জন্য অ্যালগরিদম সিস্টেমের ওপর নির্ভর করে- সেটি ফ্রি বা পেইড সার্ভিস হোক না কেন।
এই নিয়মগুলো ইউএই-তে পরিচালিত বা দেশটির ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে পরিচালিত সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজস্ব অ্যাকাউন্ট তৈরি করা, ব্যবহার করা বা পরিচালনা করা নিষিদ্ধ।
এছাড়াও তারা প্ল্যাটফর্মগুলোর মূল ফিচার বা সুবিধাগুলো ব্যবহার করতে পারবে না; যার মধ্যে রয়েছে- সামাজিক যোগাযোগ রক্ষা, পোস্ট করা, মন্তব্য করা, কন্টেন্ট শেয়ার করা, পাবলিক গ্রুপে যোগ দেওয়া, অথবা বড় পরিসরের কোনো ইন্টারেক্টিভ স্পেসে অংশ নেওয়া।
এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্ল্যাটফর্মগুলোকে কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য বয়স-যাচাইকরণ প্রক্রিয়া (যেমন: ডিজিটাল আইডি সিস্টেম বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত প্রযুক্তি) ব্যবহারের মাধ্যমে এই নিয়মগুলো বাস্তবায়নের জন্য সব প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
ইউএই-তে পরিচালিত বা ইউএই-র ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে কাজ করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকে অবশ্যই ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের অ্যাকাউন্টগুলো (যা এই নিয়ম লঙ্ঘন করে তৈরি করা হয়েছে) শনাক্ত করতে হবে এবং সেগুলো অবিলম্বে স্থগিত বা নিষ্ক্রিয় করতে হবে। একই সঙ্গে এই নিয়মগুলো ফাঁকি দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিরোধে পদক্ষেপ নিতে হবে।
এই নিয়মগুলো মেনে চলা হচ্ছে কিনা তা তদারকি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেশটির ‘ন্যাশনাল মিডিয়া অফিস এবং ‘টেলিকমিউনিকেশনস অ্যান্ড ডিজিটাল গভর্নমেন্ট রেগুলেটরি অথরিটি’-কে।
প্ল্যাটফর্মগুলোকে তাদের কার্যক্রম এই নিয়মের আওতায় নিয়ে আসার জন্য সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত একটি অন্তর্বর্তীকালীন সময় দেওয়া হয়েছে। কোনো প্ল্যাটফর্ম এই নিয়ম অমান্য করলে তাদের সতর্কবার্তা দেওয়া, সাময়িক বা স্থায়ীভাবে প্ল্যাটফর্ম ব্লক করা এবং বড় অংকের প্রশাসনিক জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে। এই নিষেধাজ্ঞাগুলো পর্যায়ক্রমে কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে।
সাম্প্রতিক ‘ডেটা রিপোর্টাল’-এর ‘ডিজিটাল ২০২৬: ইউএই’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটিতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ১৩ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার ৯৯ শতাংশ। আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় অ্যাকাউন্টের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ।