জীবিকার তাগিদে বরশি দিয়ে মাছ ধরতে বের হয়েছিলেন তারা। কিন্তু একটি আকস্মিক বজ্রপাত কেড়ে নিল তিনটি তাজা প্রাণ। এক রাতে মাছ ধরতে গিয়ে অন্য রাতে তারা ফিরলেন লাশ হয়ে। মৌলভীবাজারের রোজনগর উপজেলায় বজ্রপাতে নিহত তিন জেলের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর এলাকায় গভীর ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের বাতাস।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে নিহতদের মরদেহ তাদের নিজ গ্রামে এসে পৌঁছায়।
স্থানীয় ও পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের মৃত জহির উদ্দিনের দুই ছেলে কাবিল (৪৫) ও হামিদ (৫০) এবং পাশের বাড়ির রফিক মিয়া ছেলে ছাবির (৪২)- এই তিনজন গত বুধবার রাতে বরশি দিয়ে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে হাকালুকি হাওরের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বাঘমারা এলাকায় যান।
পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে হাওরে মাছ ধরা অবস্থায় হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই দুই সহোদরসহ তিন জেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
একসঙ্গে তিনজনের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো গ্রাম স্তব্ধ। নিহতের স্বজনরা জানান, বুধরাতে রাতে তারা হাসিমুখে মাছ ধরতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন, আর বৃহস্পতিবার রাতে ফিরলেন লাশ হয়ে। এই শোক কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাচ্ছে না।
গ্রামের বাসিন্দা আলী আক্কাস রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “এই আকস্মিক মৃত্যু আমাদের মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। দরিদ্র এই জেলেদের মাছ ধরেই সংসার চলত। মাছ ধরতে গিয়ে তারা যে এভাবে লাশ হয়ে ফিরবেন, তা কেউ ভাবেনি।”
আরেক গ্রামবাসী হারুন মিয়া তাদের পরিবারের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “মর্মান্তিক এই ঘটনায় আমরা সবাই শোকাহত। এরা দরিদ্র জেলে ছিলেন। এখন তাদের উপার্জনের মানুষগুলো চলে যাওয়ায় পরিবারগুলো কীভাবে চলবে, তা নিয়ে আমরা সবাই চিন্তায় পড়েছি।”
স্থানীয় কামালপুর বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী আল আমিন বলেন, “আকস্মিক এই মৃত্যু আমাদের মনে বেদনা দিয়েছে।”
ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুজাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল কবির বলেন, “বজ্রপাতে হাওরে নিহত তিনজনের মরদেহ আমরা উদ্ধার করে ময়না তদন্ত ছাড়াই তাদের স্বজনদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি।”