দুই দেশের মধ্যে সদ্য স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক যদি যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবে লঙ্ঘন করে, তাহলে পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এসএনএসসি)।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের দুদিন পর, শুক্রবার (১৯ জুন) ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার সচিবালয় থেকে এই আনুষ্ঠানিক বার্তা জারি করা হয়। এই চুক্তিটি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধের অবসান ঘটাবে। খবর প্রেস টিভির।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি চুক্তি সম্পাদনে ইরানি কর্মকর্তাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তিনি মন্তব্য করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চরম হতাশা ও নিরুপায় হয়ে ইরানের ওপর বিভিন্ন চাপ সৃষ্টির কৌশল ব্যবহার করেছিলেন।
নিরাপত্তা পরিষদের সচিবালয় থেকে দেশের জনগণ ও সর্বোচ্চ নেতাকে আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে, ইরানি জনগণ ও প্রতিরোধ ফ্রন্টের অধিকার রক্ষা, শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা এবং দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে ভবিষ্যতের আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আয়াতুল্লাহ খামেনির নির্দেশাবলী বাস্তবায়নে তারা কোনো প্রকার শিথিলতা দেখাবে না।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, “বিশ্বাসঘাতক এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী শত্রুর প্রতি আমাদের সম্পূর্ণ অবিশ্বাস রয়েছে। চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ওপর আমাদের সুনির্দিষ্ট নজরদারি থাকবে। মার্কিন পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের চুক্তিভঙ্গের ঘটনা ঘটলে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী কঠোর জবাব দেওয়া হবে।”
১৪ দফার এই চুক্তিটি- যার মধ্যে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য উভয় পক্ষের আরো আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে- তা পাকিস্তানের নিবিড় মধ্যস্থতা এবং অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সমর্থনে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এই চুক্তিতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে স্থায়ীভাবে শত্রুতা অবসান, ধাপে ধাপে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক যাতায়াত পুনর্বহাল করার কথা বলা হয়েছে।
এটিতে ইরানের জন্য কমপক্ষে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন-সমর্থিত পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা, তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ, ইরানের অবরুদ্ধ করে রাখা সম্পদ মুক্তি এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে ইরানের নতুন প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার পাশাপাশি তেহরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে আরো আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, এই চুক্তি স্বাক্ষরের পর ওয়াশিংটনে তীব্র রাজনৈতিক তোলপাড় শুরু হয়েছে। মার্কিন আইনপ্রণেতাদের একটি বড় অংশ ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বলছেন, বিগত কয়েক মাসের সামরিক উত্তেজনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও, এই চুক্তির মাধ্যমে চূড়ান্ত সুবিধা লাভ করেছে ইরান।