সারা বাংলা

ছুটির দিনে কক্সবাজারে আনন্দে ভাসছেন ভ্রমণপিপাসুরা

নগরজীবনের ক্লান্তি আর ব্যস্ততা ঝেড়ে একটু প্রশান্তির খোঁজে শুক্রবার (১৯ জুন) সাপ্তাহিক ছুটির দিকে দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে ছুটে এসেছেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা। মেঘ-রোদ্দুরের লুকোচুরি, সাগরের গর্জন আর মনোরম আবহাওয়ায় পরিবার, বন্ধু এবং প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে আনন্দে মেতেছেন তারা। 

আজ সকালে সরেজমিনে কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, পর্যটকদের পদচারণায় মুখর পুরো সমুদ্রসৈকত। কেউ সাগরের ঢেউয়ের সঙ্গে খেলায় মেতেছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ বিচবাইক, ঘোড়ায় চড়ে কিংবা ওয়াটার বাইকে (জেটস্কি) রোমাঞ্চ উপভোগ করছেন।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা পর্যটক শরীফুল শাহীন বলেন, “ব্যস্ত জীবনে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ খুব কম হয়। তাই ছুটির দিনে কক্সবাজারে চলে এসেছি। আবহাওয়া চমৎকার, সমুদ্রও বেশ শান্ত। পরিবার নিয়ে দারুণ সময় কাটছে।”

রাজবাড়ী থেকে আসা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সাবিনা আলতাফ বলেন, “কক্সবাজারে এর আগেও এসেছি, তবে এবার আবহাওয়া অনেক বেশি উপভোগ্য মনে হচ্ছে। সমুদ্রের বাতাস আর পরিবেশ মনকে ভীষণ প্রশান্ত করেছে।”

কুমিল্লার রাজ মেহেদী বলেন, “বন্ধুদের নিয়ে একদিনের ভ্রমণে এসেছি। সৈকতে এসে মনে হচ্ছে সব ধরনের মানসিক চাপ দূর হয়ে গেছে। বিচবাইক আর জেটস্কি রাইডও উপভোগ করেছি।”

সমুদ্রের পানিতে নেমে আনন্দে মেতেছেন পর্যটকরা

শরীয়তপুর থেকে আসা নাজমা বেগম বলেন, “পরিবারের ছোট ছোট সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে এসেছি। শিশুরা সমুদ্র দেখে খুবই আনন্দিত। নিরাপদ পরিবেশ থাকায় নিশ্চিন্তে সময় কাটাতে পারছি।”

হবিগঞ্জের তরুণ লেখক রাশেদ মিরন বলেন, “এখানে এসে মনে হচ্ছে প্রকৃতির এক বিশাল ক্যানভাসের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। সমুদ্রের সৌন্দর্য আর আবহাওয়া দুটোই অসাধারণ।”

চট্টগ্রামের গার্মেন্টস কর্মী ফারজানা আক্তার বলেন, “সাপ্তাহিক ছুটি কাটাতে কক্সবাজার বেছে নিয়েছি। সৈকতের পরিবেশ, মানুষের আন্তরিকতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আমাদের মুগ্ধ করেছে।”

কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল-গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, “বর্তমানে কক্সবাজারে পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে। পর্যটকদের উপস্থিতি মোটামুটি সন্তোষজনক। বেশ কিছু হোটেলেই ভালো বুকিং রয়েছে। আমরা অতিথিদের মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছি, যাতে কক্সবাজার থেকে তারা সুখকর অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরতে পারেন।”

পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ, লাইফগার্ড ও বিচকর্মীরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতামূলক পতাকা টানানো হয়েছে এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে পর্যটকদের সচেতন করা হচ্ছে। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে আগত দর্শনার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে সমুদ্র উপভোগ করতে পারছেন।

সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তায় দায়িত্বরত বিচকর্মীদের সুপারভাইজার মাহবুব আলম বলেন, “আমাদের কর্মীরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে থাকে। পর্যটকদের নিরাপদ জোনে অবস্থান করতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কেউ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সতর্ক করা হয়।”

কক্সবাজার সি-সেফ লাইফগার্ডের ফিল্ড টিম লিডার ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “আমাদের লাইফগার্ড সদস্যরা লাল-হলুদ পতাকা ও বাঁশি নিয়ে সার্বক্ষণিক সৈকতে টহলে থাকে। পর্যটকদের নিরাপদ সীমার মধ্যে গোসল করতে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। কেউ অসাবধানতাবশত গভীর পানিতে চলে গেলে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। আমরা চাই, পর্যটকেরা আনন্দ উপভোগ করুন, তবে অবশ্যই নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে।”

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের পুলিশ সুপার মো. মারুফাত হুসাইন বলেন, “পর্যটকদের নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছে। সৈকত, হোটেল-মোটেল জোন এবং গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পটগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যেকোনো ধরনের হয়রানি, অপরাধ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের টিম প্রস্তুত রয়েছে। আমরা চাই দেশের প্রতিটি পর্যটক কক্সবাজার থেকে নিরাপদ ও সুখকর অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফিরুক।”