ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া, এল গ্রুপের বিগ ম্যাচ। প্রথমার্ধ শেষ ২-২ গোলে। এরপরই যেন জাদুর কাঠির ছোঁয়া, আপাদমস্তক বদলে গেলো ইংল্যান্ড। থমাস টুখেলের মাস্টার প্ল্যান। ৪-২ গোলের জয়ে ইতিহাস। কিন্তু, ঠিক কী জাদুর চাল দিলেন টুখেল?
ফেরা যাক টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে। উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। খেলা শুরুর মাত্র ১২ মিনিটেই পেনাল্টি থেকে লিড থ্রী লায়ন্সদের। এরপর শুরু হয় মাঠের আসল স্নায়ুযুদ্ধ। আক্রমণভাগে ইংল্যান্ড দুর্দান্ত খেললেও তাদের ডিফেন্সে ফাটল ধরায় ক্রোয়েশিয়া। ৩৬ মিনিটে পেতার সুচিচের পাস থেকে দুর্দান্ত এক বাঁকানো শটে গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে সমতায় ফেরান মার্টিন বাতুরিনা। ম্যাচের ৪২ মিনিটে ডেকলান রাইসের কর্নার থেকে মাথা ছুঁইয়ে ইংল্যান্ডকে আবারও এগিয়ে নেন কেইন। এই গোলের মাধ্যমে গ্যারি লিনেকারের করা ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১০ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেন এই স্ট্রাইকার। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি ক্রোয়াটরা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেতার মুসার গোলে ২-২ সমতা নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল।
এই পর্যন্ত ঠিকই ছিলো। দ্বিতীয়ার্ধে নেমেই ডালাসের ডাগআউটে নিজের আসল চালটি চাললেন মাস্টারমাইন্ড থমাস টুখেল। প্রথমার্ধে নিকো ও’রেইলি এবং রিস জেমস দুজনেই একসঙ্গে আক্রমণে উঠে যাচ্ছিলেন। ফলে মাঝমাঠ আর রক্ষণভাগের মাঝে বিশাল ফাঁকা জায়গা তৈরি হচ্ছিল, যা জন স্টোন্স এবং এজরি কনসাকে কঠিন চাপে ফেলে দিচ্ছিল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই টুখেল জেমসকে কিছুটা রক্ষণাত্মক ভূমিকায় থাকার কড়া নির্দেশ দেন। জেমস ভেতরের দিকে চেপে এসে ডিফেন্স সামলানোর দায়িত্ব নিতেই ম্যানচেস্টার সিটির তরুণ নিকো ও’রেইলি উইং ধরে আক্রমণের পূর্ণ স্বাধীনতা পেয়ে যান। টুখেলের এই একটি কৌশলগত পরিবর্তনই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ক্রোয়েশিয়ার বিপজ্জনক কাউন্টার-অ্যাটাকের ধার এক নিমেষেই কমে যায়।
কৌশল বদলের ফল মিলল হাতেনাতে। ৪৭ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে ক্ষিপ্র গতিতে বক্সে ঢুকে লিভাকোভিচকে পরাস্ত করেন জুড বেলিংহাম। ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচ পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় ইংল্যান্ড। ম্যাচের শেষ দিকে এসে টুখেল আরও একবার নিজের দূরদর্শিতার প্রমাণ দেন সময়োপযোগী বদলি খেলোয়াড় নামিয়ে। ৭১ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের জায়গায় মাঠে নামেন মার্কাস রাশফোর্ড। মাঠে নামার মাত্র ১৪ মিনিটের মাথায়, ৮৫ মিনিটে ক্রোয়াট ডিফেন্সকে চূর্ণ করে ইংল্যান্ডের ৪-২ গোলের মহাকাব্যিক জয় নিশ্চিত করেন এই ফরোয়ার্ড।
এই জয় দিয়ে আন্তর্জাতিক বড় টুর্নামেন্টে নিজের অভিষেক ম্যাচ জেতা ইংল্যান্ডের প্রথম বিদেশি কোচ হিসেবে ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে নাম লেখালেন থমাস টুখেল। প্রথমার্ধের চরম উত্তেজনা আর দ্বিতীয়ার্ধের নিখুঁত ট্যাকটিক্যাল লড়াইয়ের পর, থ্রি লায়ন্সদের বিশ্বকাপ অভিযান যে এর চেয়ে রোমাঞ্চকর উপায়ে শুরু হওয়া সম্ভব ছিল না, তা একবাক্যে স্বীকার করছে ফুটবল বিশ্ব।