আন্তর্জাতিক

স্টারমারের নেতৃত্বের প্রতি নতুন চ্যালেঞ্জ

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের জন্য এবার নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হাজির হয়েছে। মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে সুস্পষ্টভাবে জয়লাভ করায় অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে এখন কিয়ার স্টারমারের প্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলতে চাইছে স্টারমারের বিরোধী শিবির।

গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র বার্নহ্যাম শুক্রবার অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। শুধু তাই নয়, উপনির্বাচনে তিনি তার পূর্বসূরি জশ সাইমন্সের প্রায় দ্বিগুণ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।  এই বিশাল জয়ের ফলে বার্নহ্যামের মিত্রদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে যে, তিনি কয়েক দিনের মধ্যে না হলেও কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই স্টারমারকে সরিয়ে প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন। অবশ্য এর অনেকটাই নির্ভর করবে প্রধানমন্ত্রী তার পদ ধরে রাখার জন্য লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেন কিনা তার উপর।

তৎকালীন লেবার এমপি সাইমন্স গত মাসে পদত্যাগ করেছিলেন। এর কারণ ছিল, সাইমন্স চাচ্ছিলেন বার্নহাম আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে স্টারমারের দুর্বল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেন একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার ম্যান্ডেলসনের বিপর্যয়কর নিয়োগ এবং এর পরে মে মাসের নির্বাচনে লেবার পার্টি ১ হাজার ২০০-এর বেশি স্থানীয় কাউন্সিলর ও ওয়েলশ সিনেডের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে লেবার পার্টির ভেতর থেকে স্টারমারের পদত্যাগের দাবি উঠেছে।

তার বিজয় ভাষণে বার্নহ্যাম প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের দপ্তরের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, এই ফলাফল “একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত হতে পারে এবং মানুষ পরিবর্তনের জন্য ভোট দিয়েছে, তারা উত্তরের জন্য এবং ওয়েস্টমিনস্টারের মাধ্যমে উপেক্ষিত প্রতিটি অঞ্চলের জন্য আরো ক্ষমতার পক্ষে ভোট দিয়েছে।”

দলীয় নেতৃত্বে পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, এটি লেবার পার্টির শেষ সুযোগ। দ্বিতীয় কোনো সুযোগ আসবে না, কিন্তু আজকের এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে ঐক্য ও আশার ওপর ভিত্তি করে একটি নতুন রাজনীতি গড়ে তোলার সুযোগ এসেছে, যা  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দেখা যায় এমন বিভক্ত রাজনীতির পথ থেকে আমাদেরকে সরিয়ে আনবে।”

লেবার পার্টির শীর্ষ নেতারা এখন প্রধানমন্ত্রীকে হয় ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি প্রক্রিয়ায় অথবা একটি নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রতিযোগিতায় সম্মত হতে অনুরোধ করছেন।