ফিলাডেলফিয়ায় ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘সি’-এর ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল ও হাইতি। পরিসংখ্যান বলছে, এটি হতে পারে দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনের এক আকর্ষণীয় লড়াই। একদিকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিমিত ছন্দে শুরু করা ব্রাজিল, অন্যদিকে পরিশ্রমী ও গতিময় হাইতি। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে লিংকন ফিন্যান্সিয়াল ফিল্ডে, যেখানে গতি আর দর্শকদের গর্জন প্রায়ই ম্যাচের রূপ বদলে দেয়। দুই দলেরই উদ্বোধনী ম্যাচে পাসিং সাফল্যের হার ছিল ৮৫ শতাংশের বেশি, তাই মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণই হতে পারে এই লড়াইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক। ম্যাচ পরিচালনা করবেন স্পেনের অভিজ্ঞ রেফারি আলেহান্দ্রো হার্নান্দেজ।
এই ম্যাচে ব্রাজিল ফিরতে পারে বিধ্বংসি ৪-২-৪ ফরমেশনে। বিপরীতে হাইতির ছক হবে নিয়ন্ত্রিত ৪-৪-২।
সবশেষ ম্যাচে আক্রমণে ব্রাজিল ১২টি শট নিয়ে পাঁচটি লক্ষ্যে রাখে। মজার বিষয় হলো, হাইতি মোট ১৫টি শট নিয়েছিল, যদিও তার মধ্যে মাত্র দুটি গোলমুখে ছিল। বল দখলের হিসাবও ছিল কাছাকাছি, ব্রাজিলের ৫১ শতাংশ এবং হাইতির ৫৪ শতাংশ।
ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার কাফ ইনজুরির কারণে অনুপস্থিত। হাইতির ফরোয়ার্ড ডাকেন্স নাজোঁ শারীরিক অস্বস্তির কারণে অনিশ্চিত।
সাম্প্রতিক ফর্ম ও ইতিহাস: ব্রাজিল টানা চার ম্যাচ অপরাজিত থাকলেও শেষ ছয় ম্যাচে একবারও ক্লিনশিট রাখতে পারেনি। ফলে তাদের ম্যাচগুলোতে গোলের দেখা মিলছে নিয়মিত। অন্যদিকে হাইতির সাম্প্রতিক চিত্র অনেক বেশি সংযত। শেষ সাত ম্যাচের পাঁচটিতে হয়েছে ২.৫ গোলের কম। মুখোমুখি ইতিহাস অবশ্য পুরোপুরি ব্রাজিলের পক্ষে। ২০১৬ কোপা আমেরিকায় দুই দলের একমাত্র সাক্ষাতে ব্রাজিল ৭-১ গোলের বিশাল জয় পেয়েছিল। সেই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছিলেন ফিলিপে কৌতিনিয়ো।
পরিসংখ্যান কী বলছে: ব্রাজিলের উদ্বোধনী ম্যাচে ছিল নিয়ন্ত্রিত ফুটবলের সঙ্গে আক্রমণাত্মক ঝলক। তারা ৫১৪ পাসের মধ্যে ৪৪৯টি সফলভাবে সম্পন্ন করে, সফলতার হার ৮৭.৩৫ শতাংশ। ১২ শটের মধ্যে পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে। মোট এয়ারিয়াল ডুয়েলের ৭৫ শতাংশ জিতেছে তারা। হাইতির পরিসংখ্যানও বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। তারা প্রতিপক্ষের চেয়ে বেশি, মোট ১৫টি শট নিয়েছে। বল দখলে ছিল ৫৪ শতাংশ এবং ৮৫.৩৮ শতাংশ সফলতায় ৩৬৮টি পাস সম্পন্ন করেছে। শারীরিক সক্ষমতার দিক থেকেও হাইতি নজর কেড়েছে।
যাদের দিকে থাকবে নজর: উদ্বোধনী ম্যাচে ব্রাজিলের ত্রাতা ভিনিসিয়ুদের দিকে নজর থাকবে এই ম্যাচেও। দুটি কী পাস দিয়েছেন এবং ৩১ পাসের মধ্যে ২৬টি সফল করেছেন। প্রায় ১০ কিলোমিটার দৌড়ানোর পাশাপাশি ১২টি স্প্রিন্ট করেছেন। তার সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় ৩৩.২২ কিলোমিটার। হাইতির মিডফিল্ডের প্রাণভোমরা জ্যঁ-রিকনার বেলগার্দে। ৫৩টি সফল পাস, দুটি কী পাস, একটি ট্যাকল, একটি ইন্টারসেপশন ও ছয়টি বল রিকভারি করেছেন। নয়টি দ্বৈরথের মধ্যে ছয়টিতে জয় পেয়েছেন। হাইতির আক্রমণ ও মাঝমাঠের সংযোগ গড়ে তোলার মূল দায়িত্ব থাকবে তার কাঁধে।
সব মিলিয়ে কাগজে-কলমে ব্রাজিল অনেক এগিয়ে থাকলেও, পরিসংখ্যান বলছে হাইতি লড়াই করার মতো সামর্থ্য রাখে। তাই ফিলাডেলফিয়ার রাতটি শুধুই ফেবারিটদের প্রদর্শনী নাও হতে পারে, বরং হতে পারে দৃঢ়তা, কৌশল আর প্রতিভার এক মনোমুগ্ধকর বিশ্বকাপ লড়াই।