২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখার অন্যতম বড় কারণ ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। গ্রুপ ‘সি’-তে হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নামার আগে সবার নজর থাকবে এই ব্রাজিলিয়ান তারকার দিকেই।
২৫ বছর বয়সী রিয়াল মাদ্রিদ সুপারস্টার এখন ব্রাজিলের আক্রমণভাগের প্রধান ভরসা। নেইমার-পরবর্তী যুগে ধীরে ধীরে তিনিই হয়ে উঠছেন সেলেসাওদের নতুন পোস্টার বয়। গতি, ড্রিবলিং, সৃজনশীলতা এবং গোল করার অসাধারণ দক্ষতায় বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ফরোয়ার্ডদের একজন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন ভিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে ভিনিসিয়ুসের খেলা। মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে দলের একমাত্র গোলটি করেছিলেন তিনিই। সেই ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হলেও ব্রাজিলকে হার এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এই উইঙ্গার।
হাইতির বিপক্ষেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের কাঁধে তুলে নেবেন এই ফরোয়ার্ড, এমনটাই প্রত্যাশা ব্রাজিল ফ্যানদের। হাইতি প্রাণবন্ত ও পরিশ্রমী দল হলেও বিশ্বমানের আক্রমণভাগকে থামানোর মতো শক্তিশালী রক্ষণভাগ তাদের নেই। বিশেষ করে, ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে ভিনিসিয়ুস বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের একজন। তার বিস্ফোরক গতি এবং ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে ওঠার ক্ষমতা মুহূর্তেই ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারে।
মরক্কোর বিপক্ষে পয়েন্ট হারানোর পর ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তিও আরো শক্তিশালী পারফরম্যান্সের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। সেই উন্নতির কেন্দ্রে থাকবেন ভিনিসিয়ুস।
বিশ্বকাপের মঞ্চে ভিনিসিয়ুস ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেই প্রথমবারের মতো ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে খেলেছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। অভিষেক বিশ্বকাপেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন তিনি। সেবার চার ম্যাচে একটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করেছিলেন এই ফরোয়ার্ড। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিলের ৪-১ গোলের জয়ে একটি গোল করেন তিনি। এছাড়া, সার্বিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে দুটি অ্যাসিস্টও করেছিলেন। বড় মঞ্চের চাপ সামলে নিজের সেরাটা দেওয়ার সক্ষমতা তখনই দেখিয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস।
২০২৬ বিশ্বকাপেও ইতোমধ্যে গোলের খাতা খুলেছেন তিনি। মরক্কোর বিপক্ষে করা সেই গোল আরো একবার প্রমাণ করেছে, ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় আক্রমণাত্মক অস্ত্র এখন ভিনিসিয়ুসই।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ২০২১ সালে ব্রাজিলের সিনিয়র দলে অভিষেকের পর থেকেই জাতীয় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠেছেন ভিনিসিয়ুস। ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ৫০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে দেশের হয়ে করেছেন ১০ গোল। শুধু গোল করাই নয়, তার প্রভাব আরো বিস্তৃত। নিজের গতি ও দক্ষতায় প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে ফেলেন, সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করেন এবং প্রায়ই একাধিক ডিফেন্ডারকে নিজের দিকে টেনে নেন। ফলে, ব্রাজিলের অন্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের জন্যও জায়গা তৈরি হয়, যা পুরো দলকে আরও ভয়ঙ্কর করে তোলে।
ক্লাব ফুটবলে অনন্য উচ্চতা ক্লাব পর্যায়ে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে নিজেকে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ২০১৮ সালে স্প্যানিশ জায়ান্টদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার পর সম্ভাবনাময় এক তরুণ থেকে পরিণত হয়েছেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সুপারস্টারে। স্প্যানিশ জায়ান্টদের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১২৮ গোল ও ১০০ অ্যাসিস্টের রেকর্ড তার শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেয়। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো এলিট মঞ্চে ৩৪টি গোল ও ৩৩টি অ্যাসিস্ট করে তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন কিংবদন্তিদের কাতারে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ মৌসুমেও ৫৩ ম্যাচে ২২ গোল আর ১৪ অ্যাসিস্ট করেছেন।
হাইতির বিপক্ষে বড় দায়িত্ব হাইতির বিপক্ষে ম্যাচটি ভিনিসিয়ুসের জন্য আরেকটি সুযোগ, যেখানে তিনি দেখাতে পারবেন কেন তাকে বর্তমান ফুটবলের উজ্জ্বলতম তারকাদের একজন বলা হয়। পাশাপাশি, হাইতির রক্ষণভাগ ভাঙার দায়িত্বের বড় অংশই থাকবে ভিনিসিয়ুসের কাঁধে।