বিনোদন

বিজয় দৃঢ় ভরসার মানুষ, সে আমাকে শক্তি জোগায়: রাশমিকা

ভারতের দক্ষিণী সিনেমার আলোচিত অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা। বলিউডে পা রেখেও মেধা-পরিশ্রমের গুণে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। ‘পুষ্পা’, ‘অ্যানিমেল’, ‘ছাবা’-এর মতো ব্লকবাস্টার সিনেমা তার ঝুলিতে জমা পড়েছে। পুরুষপ্রধান এসব সিনেমায় অভিনয় দিয়ে নিজেকে আলাদা করেছেন। 

রাশমিকা অভিনীত নতুন সিনেমা ‘ককটেল টু’। হিন্দি ভাষার রোমান্টিক-কমেডি ঘরানার এ সিনেমা গতকাল প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। বিয়ের পর এটি তার অভিনীত প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা। এ উপলক্ষে ভ্যারাইটি ইন্ডিয়াকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন রাশমিকা। বিজয় দেবরকোন্ডার সঙ্গে তার দাম্পত্য জীবন, ক্যারিয়ারসহ নানা বিষয় নিয়ে এ আলাপচারিতায় কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।

বিয়ের পর কয়েক মাস কেটে গেছে। জীবনের এই নতুন অধ্যায় থেকে সবচেয়ে বড় শিক্ষা কী পেলেন? এ প্রশ্নের জবাবে রাশমিকা মান্দানা বলেন, “আমি আমার সেরা বন্ধুকে বিয়ে করেছি। এই দৃঢ় ভরসার মানুষটি আমাকে অবিশ্বাস্যভাবে শক্তি জোগায়। শুটিংয়ের দিনটি যতই ক্লান্তিকর হোক বা সিনেমার প্রচার যতই ব্যস্ততাপূর্ণ হোক, দিন শেষে আমি বাড়ি ফিরব, যেখানে সম্পূর্ণ শান্তি রয়েছে।”

বিজয়-রাশমিকাকে একসঙ্গে পর্দায় দেখার জন্য ভক্তরা মুখিয়ে আছেন। ‘রানাবালি’ সিনেমায় আপনাদের পুনর্মিলন হচ্ছে। ভক্তদের মতো আপনিও কী সমান উচ্ছ্বসিত? এ প্রশ্নের উত্তরে রাশমিকা মান্দানা বলেন, “গীতা গোবিন্দম’, ‘ডিয়ার কমরেড’ সিনেমার জন্য দর্শকরা আমাদের যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তা আমরা হৃদয়ের খুব কাছাকাছি রাখি। কিন্তু ‘রানাবালি’ সিনেমা সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জগৎ। এটি কোনো সমসাময়িক প্রেমের গল্প নয়; বরং একটি বিশাল, তীব্র আবেগঘন পিরিয়ড ড্রামা। ‘রানাবালি’ ও ‘জয়মা’-এর মতো চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে আমাদের আগের পর্দার ব্যক্তিত্ব ঝেড়ে ফেলে ঔপনিবেশিক যুগের কঠিন ও আবেগঘন বাস্তবতায় প্রবেশ করতে হয়েছে। এত বড় পরিসরের চরিত্রে আমরা আগে কখনো কাজ করিনি। সিনেমাটির প্রথম ঝলক ও গানগুলো প্রকাশের পর যে উষ্ণ সাড়া পেয়েছি, তা আমাদের কৃতজ্ঞতায় ভরিয়ে দিয়েছে।”

আপনি কর্মজীবী একজন নারী ও নববধূ। এই দুটি ভূমিকাকে একসঙ্গে সামলানো কী কঠিন? জবাবে রাশমিকা মান্দানা বলেন, “সত্যি বলতে, পৃথিবীর প্রতিটি কর্মজীবী নারীই একজন জাদুকর। কারণ আমরা সবাই আমাদের ভালোবাসার বিষয়গুলোকে নিজের মতো করে ব্যালেন্স করি। এই দুটি ‘ভূমিকা’-কে আলাদা করে দেখার পরিবর্তে, আমার সত্তার দুটি সুন্দর অংশ মনে করি।”

জেন-জি প্রজন্মের অনেকে মনে করেন—বিয়ে একটি অচল প্রতিষ্ঠান। তাদের উদ্দেশে আপনার কী বার্তা? উত্তরে রাশমিকা মান্দানা বলেন, “সত্যিই এটি গভীর এবং প্রাসঙ্গিক একটি প্রশ্ন। আমি বুঝতে পারি, অনেকে কেন এমন ধারণা পোষণ করেন। দীর্ঘদিন ধরে সমাজ বিয়েকে নির্দিষ্ট চেকলিস্ট, কঠোর কিছু নিয়ম কিংবা এমন কিছু হিসেবে দেখিয়েছে, যা একজন নারীর নির্দিষ্ট বয়সের মধ্যে করা উচিত। কিন্তু আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে যা শিখেছি, তা হলো—বিয়ে সমাজের তৈরি সংজ্ঞা অনুযায়ী হতে হবে এমন নয়; এটি ঠিক তেমনই হতে পারে, যেমনটা আপনি এবং আপনার সঙ্গী চান।”

আপনার বিয়ের পর প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা হতে যাচ্ছে ‘ককটেল টু’। এতে করে কী সিনেমাটি আরো বিশেষ হয়ে উঠেছে? এ প্রশ্নের উত্তরে রাশমিকা মান্দানা বলেন, “আমি সবসময় আমার ব্যক্তিগত জীবন এবং পেশাগত জীবনকে আলাদা রেখেছি। ‘ককটেল টু’ সিনেমার মুক্তি তার নিজস্ব কারণেই বিশেষ। আর বিয়েও তার নিজস্ব কারণেই বিশেষ। আমি এ দুটিকে আলাদাভাবেই দেখি।” 

২০১৮ সালে ‘গীতা গোবিন্দম’ সিনেমায় প্রথম জুটি বেঁধে পর্দায় হাজির হন বিজয়-রাশমিকা। ২০১৯ সালে ‘ডিয়ার কমরেড’ সিনেমায় অভিনয় করেন তারা। এ দুটো সিনেমায় তাদের রসায়ন দর্শকদের মুগ্ধ করে। ‘ডিয়ার কমরেড’, ‘গীতা গোবিন্দম’-এর মতো প্রেমের সিনেমার শুটিংয়ের সময় থেকে বিজয়ের সঙ্গে রাশমিকার বোঝাপড়া ভালো। সেই সময় থেকেই এ জুটিকে ঘিরে প্রেমের গুঞ্জনের সূত্রপাত। যদিও এ সম্পর্ক ‘বন্ধুত্বে’ সীমাবদ্ধ বলে দাবি করছিলেন তারা। তারপরও জিমে যাওয়া, চুপিচুপি শহর ছেড়ে ছুটি কাটানো—তাদের কীর্তিকলাপ নিয়ে অনুরাগীদের আগ্রহ আরো বেড়ে যায়। 

নানা নাটকীয়তা ও দীর্ঘ অপেক্ষার পর সাতপাকে বাঁধা পড়েন তারকা জুটি রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবরকোন্ডা। চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি, উদয়পুরের পাহাড়ঘেরা বিলাসবহুল রিসোর্টে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন তারা। এসময় দুই পরিবারের সদস্য, নিকটাত্মীয় এবং বন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন।