সারা বাংলা

সিলেটকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে: পর্যটনমন্ত্রী

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, “সিলেটকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন ও বিমান যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা রয়েছে। সরকারের নতুন পর্যটন উন্নয়ন পরিকল্পনায় সিলেটকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সিলেটের বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ শিগগিরই শুরু হবে। পাশাপাশি এ অঞ্চলের অন্যান্য বিমানবন্দর উন্নয়নেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে কালিঘাট ইউনিয়নের ফুলছড়া চা-বাগান মাঠে আয়োজিত ‘হারমনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

আফরোজা খানম রিতা বলেন, “আমরা পর্যটন খাতের জন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করছি। সেই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সিলেটকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি সিলেটের বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ দ্রুত শুরু হবে। এ অঞ্চলের অন্য বিমানবন্দর উন্নয়নের বিষয়েও প্রানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার পর্যটন খাতকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। এ কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সিলেট অঞ্চল বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।”

পর্যটনমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তার বৈচিত্র্য। ধর্ম, ভাষা, সংস্কৃতি ও জনগোষ্ঠীর ভিন্নতা দেশকে বিভক্ত করেনি; বরং আরো সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করেছে। শ্রীমঙ্গল দেশের অন্যতম বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক অঞ্চল, যেখানে প্রায় ২৬টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, শিল্পকলা ও জীবনধারা বাংলাদেশের জাতীয় সংস্কৃতিকে আরো সদৃদ্ধ করেছে।”

তিনি বলেন, “সরকার কমিউনিটি-ভিত্তিক পর্যটন, এথনিক ট্যুরিজম এবং টেকসই পর্যটনের বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে পর্যটনের সম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। 

আফরোজা খানম রিতা আশা প্রকাশ করেন, হারমনি ফেস্টিভ্যাল দেশের সম্প্রতি ও বৈচিত্র্যের বার্তা আরো বিস্তৃত পরিসরে পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে। এ ধরনের আয়োজন দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে দেশ-বিদেশে তুলে ধরার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পর্যটনের বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পররাষ্ট্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম. নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মোল্লা, সিলেট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. মাইনুল হাসান, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমান, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল, পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার। পরে মন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে তিন দিনব্যাপী ‘হারমনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২’-এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত এ উৎসবে ২৭টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অংশগ্রহণ করেছে। খাসিয়া, মণিপুরি, ত্রিপুরা, গারো, সাঁওতাল, ওরাও, মুন্ডা, খাড়িয়া, বারাইক, কন্দ, ভুঁইয়া, ভুমিজ, কুর্মী, লোহার ও গঞ্জুসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠী তাদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি, লোকজ শিল্প, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারা তুলে ধরছে। উৎসব প্রাঙ্গণে বিভিন্ন স্টলে দর্শনার্থীরা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর ঐতিহ্যবাহী খাবার, পোশাক, হস্তশিল্প, সাংস্কৃতিক উপকরণ ও জীবনধারার নানা দিক সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছেন। খাসিয়াদের পান ও বাঁশশিল্প, ত্রিপুরাদের কোমরতাঁত, মণিপুরিদের হস্ততাঁত ও ঐতিহ্যবাহী পোশাক, চা ও রাবার প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রদর্শনী এবং হারিয়ে যেতে বসা বিভিন্ন মৃৎশিল্প ও গৃহস্থালি সামগ্রী দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করছে। উৎসবটি আগামী তিন দিন চলবে।