ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু হয়েছিল। মরক্কোর বিপক্ষে জয় হাতছাড়া হওয়ার পর ব্রাজিলকে নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। সাম্বার দেশ কি তবে আবারও নিজেদের হারিয়ে ফেলছে? কার্লো আনচেলত্তির হাতে নতুন ব্রাজিল কি এখনো নিজের সেরা রূপ খুঁজে পায়নি? এতসব নেতিবাচক প্রশ্নের জবাব দিতে ব্রাজিল খুব বেশি সময় নেয়নি।
শনিবার সকালে ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে হাইতির বিপক্ষে মাঠে নেমে শুরু থেকেই নিজেদের হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার বার্তা দেয় ব্রাজিল। শেষ পর্যন্ত ম্যাতেউস কুনিয়ার জোড়া গোল এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের একটি করে গোল অ্যাসিস্টে ৩-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে চলমান বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় উদযাপন করেছে ব্রাজিল।
ম্যাচের প্রথম দশ মিনিটে হাইতিকে বেশ সংগঠিতই মনে হয়েছিল। তারা লড়াই করেছে, দৌড়েছে, ব্রাজিলকে জায়গা ছাড়েনি। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, ততই দেখা গেছে দুই দলের মানের পার্থক্য। ব্রাজিলের আক্রমণের গতি, পাসের ছন্দ আর ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের সামনে ধীরে ধীরে অসহায় হয়ে পড়েছে হাইতির রক্ষণভাগ।
প্রথম গোলের পর যেন বাঁধ ভেঙে যায়। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণভাগ, সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে ব্রাজিলের আধিপত্য। আর সেই আধিপত্যের সবচেয়ে বড় প্রতীক ছিলেন ম্যাতেউস কুনিয়া। মরক্কোর ম্যাচে যাকে প্রথম একাদশে না রাখা নিয়ে এত আলোচনা, এত বিতর্ক, সেই কুনিয়াই জোড়া গোল করে দেখিয়ে দিলেন কেন কোচ তার ওপর আস্থা রেখেছেন।
ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও ছিলেন নিজের চেনা রূপে। গতি, ড্রিবলিং আর আক্রমণাত্মক মানসিকতায় বারবার হাইতির রক্ষণে আতঙ্ক ছড়িয়েছেন তিনি। গোল করে নিজের পারফরম্যান্সও পূর্ণতা দিয়েছেন।
ম্যাচের ১২ মিনিটে রাফিনিয়া বল জালে পাঠিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামা এনদ্রিকও নিজের নাম স্কোরশিটে তুলেছিলেন। ৭৮ মিনিটে তার শট জালে জড়ালেও প্রযুক্তির চোখে ধরা পড়ে অফসাইড। ফলে তরুণ তারকার উদযাপন থেমে যায় কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই।
এর বাইরে অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করেছে ব্রাজিল। শেষ পাসে ভুল, ফিনিশিংয়ে সামান্য অসাবধানতা কিংবা হাইতির গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় ব্যবধান আরও বাড়েনি।
ম্যাচের ৬৪ মিনিটে নিজের কাজ শেষ করে মাঠ ছাড়েন জোড়া গোল করা কুনিয়া। একই সাথে মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতাকেও উঠিয়ে নেন আনচেলত্তি। তাদের জায়গায় নামেন এনদ্রিক ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। তখনই বোঝা যাচ্ছিল, আনচেলত্তি শুধু ম্যাচ জিততে চান না, তিনি পুরো স্কোয়াডকে ছন্দে আনতে চান।
এই ম্যাচে আরেকবার প্রমাণ মিলেছে কেন কার্লো আনচেলত্তিকে বিশ্বের সেরা কোচদের একজন বলা হয়। মরক্কোর বিপক্ষে ড্রয়ের পর তিনি আতঙ্কিত হননি, আবেগে ভেসে যাননি। বরং সঠিক জায়গায় পরিবর্তন এনে দলের আক্রমণে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছেন। আর সেই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় পুরস্কার হয়ে এসেছে কুনিয়ার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স।
বিশ্বকাপের পথ এখনো অনেক দীর্ঘ। সামনে আরও কঠিন প্রতিপক্ষ অপেক্ষা করছে। কিন্তু হাইতির বিপক্ষে এই জয় ব্রাজিলকে শুধু তিনটি পয়েন্ট দেয়নি, দিয়েছে আত্মবিশ্বাস, দিয়েছে বিশ্বাস, দিয়েছে নিজেদের সামর্থ্যের কথা আবার মনে করিয়ে দেওয়ার সুযোগ।
সাম্বার ছন্দ হয়তো পুরোপুরি ফিরে আসেনি। কিন্তু তার সুর যে আবার শোনা যাচ্ছে, হাইতির বিপক্ষে এই রাত তারই সবচেয়ে সুন্দর প্রমাণ। আর ব্রাজিল যখন ছন্দ খুঁজে পেতে শুরু করে, তখন বিশ্বকাপের বাকি দলগুলোও একটু করে সতর্ক হয়ে যায়।
এদিকে গ্রুপ সি'তে দুই ম্যাচ শেষে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে শীর্ষে আছে ব্রাজিল। সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে মরক্কো। ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে স্কটল্যান্ড এবং কোনো পয়েন্ট না পাওয়া হাইতি রয়েছে চতুর্থ স্থানে।