মানুষ হাসে, রাগ করে, ভয় পায়—আবার কাঁদেও। তবে অনেকেই কান্নাকে দুর্বলতার লক্ষণ বলে মনে করেন। কিন্তু মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, কান্না শুধু আবেগের প্রকাশ নয়; এটি শরীর ও মনের জন্যও উপকারী হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, সঠিক প্রেক্ষাপটে কান্না মানসিক চাপ কমাতে, আবেগের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে এবং সামাজিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে সাহায্য করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক মানুষ কান্নার পর মানসিক স্বস্তি অনুভব করেন। বিশেষ করে নিরাপদ ও সহানুভূতিশীল পরিবেশে কান্না করলে শরীরের 'প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম' সক্রিয় হয়, যা শরীরকে শান্ত হতে সাহায্য করে। এর ফলে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কিছুটা কমে আসে।
কান্না হতে পারে প্রাকৃতিক ‘সেলফ-সুথিং’ পদ্ধতি গবেষকেরা বলছেন, কান্না মানুষের স্বাভাবিক আত্ম-প্রশমনের একটি উপায়। আবেগপ্রবণ পরিস্থিতিতে কান্না শরীরকে 'ফাইট অর ফ্লাইট' অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনে। ফলে কান্নার কিছুক্ষণ পর অনেকেই নিজেকে তুলনামূলক হালকা ও শান্ত অনুভব করেন।
ব্যথা কমাতেও ভূমিকা রাখে গবেষণায় দেখা গেছে, আবেগজনিত কান্নার সময় শরীরে অক্সিটোসিন ও এন্ডোরফিন নিঃসৃত হয়। এই রাসায়নিকগুলোকে ‘ফিল-গুড’ হরমোন বলা হয়। এগুলো শারীরিক ও মানসিক উভয় ধরনের ব্যথা কমাতে সহায়তা করতে পারে। তাই অনেক মানুষ কাঁদার পর এক ধরনের স্বস্তি অনুভব করেন।
সম্পর্ককে করে আরও গভীর কান্না মানুষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অ-মৌখিক যোগাযোগের মাধ্যম। কেউ কাঁদলে আশপাশের মানুষ সাধারণত সহানুভূতি দেখায় এবং সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। গবেষকদের মতে, এই আবেগ ভাগাভাগি করার প্রবণতা পারস্পরিক বিশ্বাস ও সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।
চোখেরও রয়েছে উপকার সব কান্না আবেগের কারণে হয় না। চোখের সুরক্ষার জন্যও অশ্রু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চোখের পানি ধুলাবালি ও জীবাণু দূর করতে সাহায্য করে এবং চোখকে আর্দ্র রাখে। অশ্রুতে থাকা লাইসোজাইম নামের একটি উপাদান জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে।
তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলছেন, সব ধরনের কান্না সমান উপকারী নয়। জনসমক্ষে অপমানিত হওয়া বা চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে কান্না করলে বরং মানসিক অস্বস্তি বাড়তে পারে। আবার কোনো কারণ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত কান্না, বিষণ্নতা বা দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
সূত্র: ক্লেভল্যান্ড ক্লিনিক, মেডিকেল নিউজ টুডে