জাতীয়

সঠিক বিতার্কিকরা দেশের সম্পদ: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, “সঠিক বিতার্কিকরা সভ্যতার জন্য একটি বড় সম্পদ। বাংলাদেশের কল্যাণ, জনগণ ও রাষ্ট্রের জন্য বিতার্কিকদের ভবিষ্যতের সম্পদ।”

শনিবার (২০ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, “৪৮টি দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বিতর্ক প্রতিযোগিতা একদিনে সমান্তরালভাবে বিভিন্ন পর্ব পরিচালনার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। এ আয়োজনে যারা যেভাবে যুক্ত ছিলেন, তাদের প্রত্যেকের অবদান রয়েছে।”

তিনি বিজয়ীদের পাশাপাশি প্রতিযোগিতার সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে অভিনন্দন জানান।

তিনি বলেন, “বিতর্ক এবং ঝগড়ার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক কিংবা রাষ্ট্রীয় জীবনে মতপার্থক্য প্রায়ই সংঘাতে রূপ নেয়। কিন্তু সুস্থ ও স্বাস্থ্যসম্মত বিতর্কের সংস্কৃতি সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।”

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “একটি রাষ্ট্র কিংবা আন্তর্জাতিক সমাজ ব্যবস্থার মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত বিতর্কের সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং তাকে বৈশ্বিক সভ্যতার একটি উপাদান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সভ্যতার জন্য বড় আশীর্বাদ। বিতর্কের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সত্যকে আবিষ্কার করা এবং সেই সত্যকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো।”

তিনি বলেন, “একজন মানুষের মধ্যে নিজের ভুল সংশোধনের মানসিকতা, নতুন সত্য গ্রহণের সক্ষমতা এবং চিন্তার নমনীয়তা থাকা প্রয়োজন। এই মনোজগতই একজন মানুষকে জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান করে তোলে।”

বক্তব্যে তিনি আলবার্ট আইনস্টাইনের উদাহরণ টেনে বলেন,“একজন মানুষের অসাধারণ চিন্তাশক্তি যেমন মানবসভ্যতাকে এগিয়ে নিতে পারে, তেমনি অনেক মানুষ যদি একইভাবে যুক্তিবাদী চিন্তা ও সত্য অনুসন্ধানে মনোযোগী হয়, তাহলে তার প্রভাব আরো ব্যাপক হতে পারে।”

গৌতম বুদ্ধের উদাহরণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “ইতিহাসে বহু জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি নিজেদের এবং সমাজের সমস্যার সমাধান খুঁজতে গিয়ে প্রশ্ন, অনুসন্ধান ও আত্মসমালোচনার পথ অনুসরণ করেছেন। সেই প্রক্রিয়াও এক ধরনের বিতর্কের প্রক্রিয়া।”

তিনি বলেন, “কখনো একজন মানুষের নিজের মনোজগতের মধ্যেও বিতর্ক চলতে পারে, আবার কখনো তা অনেক মানুষের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে বিতর্ক যদি সুশৃঙ্খল হয়, তাহলে তা এমন সমাধান উৎপাদন করে যা সভ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে পরিণত হয়।”

বিতার্কিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “সেই অর্থে সঠিক বিতার্কিকরা সভ্যতার জন্য একটা বড় সম্পদ। এই পর্যায়ে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত সব বিতার্কিক বাংলাদেশের কল্যাণের জন্য, বাংলাদেশের জনগণের জন্য, রাষ্ট্রের জন্য ভবিষ্যতের সম্পদ।”

অনুষ্ঠানের স্পেশাল মডারেটর অধ্যাপক শামীম রেজার ভূয়সী প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, “আয়োজকেরা এ অনুষ্ঠানের সঙ্গে সঠিক ব্যক্তিদের যুক্ত করেছেন।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেট সোসাইটির সভাপতি জুবায়ের হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রাকিব আনজুম, ইউএনডিপির কর্মকর্তা, অস্ট্রেলিয়ান এইড সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা।