সারা বাংলা

ফরিদপুরে পদ্মার ভাঙনে হুমকিতে স্কুল-ক্লিনিক

ফরিদপুরের সদর উপজেলার পদ্মাপাড়ের মানুষের নদীগর্ভে ভিটেমাটি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। মাত্র এক সপ্তাহে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের প্রায় অর্ধ কিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের তীব্রতা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় আতঙ্কিত বাসিন্দারা তড়িঘড়ি করে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে। মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর আতঙ্কে মানুষের নির্ঘুম রাত কাটছে। 

শনিবার (২০ জুন) সকালে সরেজমিন সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউসুফ মাতুব্বরের ডাঙ্গী, আসমত আলীর ডাঙ্গী ও শুকুর আলী মৃধা ডাঙ্গী এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এমন করুণ দৃশ্য। জমি ও ফসল হারিয়ে চরাঞ্চলের কয়েকশত পরিবার এখন দিশেহারা। 

স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ করেন, নদী থেকে প্রভাবশালী চক্রের অবাধে বালু লুট এবং ভাঙন রোধে স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ না দেওয়ার কারণে প্রতিবছর বর্ষা এলে এই চরাঞ্চলের মানুষের চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে। বিগত দিনে ভাঙন প্রতিরোধের নামে নামমাত্র কিছু বালুর বস্তা বা জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা কাজে আসেনি।

ফরিদপুর সদর উপজেলার চরটেপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিক, মসজিদ ও ইটভাটাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে রয়েছে। নদী এখন স্কুল ও ক্লিনিক থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরত্বে অবস্থান করছে।

নর্থচ্যানেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোফাজ্জেল হোসেন জানান, নদীভাঙনের সার্বিক পরিস্থিতি জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে।

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হোসেন জানান, ভাঙনকবলিত নতুন স্থানগুলোতে দ্রুতই সাময়িকভাবে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থায়ী বাঁধের জন্য প্রকল্প প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানান তিনি। 

ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া বলেন, ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিয়েছেন। ভাঙন রোধে জরুরি ও টেকসই ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে।