আন্তর্জাতিক সমুদ্র দিবস-২০২৬ উপলক্ষে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে দুই দিনব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কেওক্রাডং বাংলাদেশ। এ সময় লাবণী ও ইনানী সৈকত এলাকা থেকে প্রায় ৭ টন প্লাস্টিক ও অন্যান্য অপচনশীল বর্জ্য অপসারণ করা হয়।
শুক্রবার (১৯ জুন) ও শনিবার (২০ জুন) আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সংগঠনটির সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং সামাজিক সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকেরা অংশ নেন।
আয়োজকরা জানান, সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে প্লাস্টিক বোতল, চিপসের প্যাকেটসহ নানা ধরনের অপচনশীল বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পরে এ সব বর্জ্য কক্সবাজার পৌরসভার ডাম্পিং স্টেশনে পাঠানো হয়। প্লাস্টিক ও অপচনশীল বর্জ্যের কারণে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য দিন দিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সৈকতকে পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক সমুদ্র দিবসকে কেন্দ্র করে এ ধরনের কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে সংগঠনটি।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেওয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিআরএফ ইয়ুথ ক্লাব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মাখদুম বলেন, অভিযানে অংশ নিয়ে সৈকতজুড়ে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক ও অপচনশীল বর্জ্য দেখতে পেয়েছেন তারা। পর্যটকরা আরও সচেতন হলে সমুদ্র সৈকতকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে অংশ নিতে আসা সৃজিতা রায় বলেন, সমুদ্র ও পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তিগত সচেতনতার বিকল্প নেই। ব্যবহৃত প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেললে সেগুলো পুনর্ব্যবহার বা রিসাইক্লিং করা সহজ হয়। তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের মধ্যে প্লাস্টিক ব্যবহারের প্রবণতা কমাতে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কেওক্রাডং বাংলাদেশের পরিচালক মুনতাসির মামুন বলেন, প্রায় দুই দশক ধরে তারা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তার মতে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শুধু রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়, বরং এটি প্রতিটি নাগরিকেরও দায়িত্ব। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হলে পরিবেশ দূষণ এবং বর্জ্য সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে।
তিনি বলেন, জনসংখ্যা বেশি হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে বর্জ্য সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব, যদি নাগরিকরা নিজেদের দায়িত্ববোধ থেকে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে এগিয়ে আসেন।