শাকিল আহমেদ, শেরপুর : গারোদের মাঝে সাধারণত ওঝা-কবিরাজ দেখতে পাওয়া যায় না। সেই গারোদের মাঝেই এবার আবির্ভাব হয়েছে এক কবিরাজের। শেরপুর জেলার গারো পাহাড় এলাকায় এই গারো কবিরাজের আস্তানা। কবিরাজের তেল পড়া ও ঝাড়ফুঁকে নাকি ভালো হচ্ছে প্যারালাইসিসের মতো রোগও। দিন দিন এ কবিরাজের খবর যতই ছড়াচ্ছে, ততই ভিড় বাড়ছে কবিরাজের আস্তানায়। প্রতিদিনই ভোর থেকেই ওই কবিরাজের বাড়ীতে ভিড় করছে শত শত মানুষ।
গারোদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, এই গারো কবিরাজের নাম জাকুব মারাক। বয়স ৩৫। সে গারো পাহাড় এলাকার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম সমশ্চুড়া গ্রামের অবসর প্রাপ্ত বিজিবি সদস্য নিতাই মারাকের ছেলে। তেল পড়া ও ঝাড়ফুঁক দিয়ে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত থেকে পেটের ব্যাথা, মাথা ব্যাথা, বাত ব্যাথাসহ সব ধরনের রোগ বালাই সারাতে তিনি দাওয়াই দেন। এ জন্য টাকা-পয়সা বা দান দক্ষিণাও তিনি নেন না। এমন খবর দিন দিন আশপাশের গ্রামে ছড়িয়ে পড়ায় সমস্যাগ্রস্ত মানুষ কবিরাজের বাড়ীতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে।
ভোর হতেই আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ দলে দলে ছুটে আসছে তেল পড়া ও ঝাড়ফুঁক নিতে। কবিরাজ জাকুব মারাক শুধমাত্র খাবার সময়টুকু ছাড়া সন্ধ্যা পর্যন্ত বিরামহীন তেল পাড়া ও ঝাড়ফুঁক দিয়ে যাচ্ছেন।
আসছেন তেল পড়া ও ঝাড়ফুঁক নিয়ে খুশি মনে ফিরে যাচ্ছেন। কেউ কেউ জানান তারা উপকার পেয়েছেন। কেউ মনে করছেন ধীরে ধীরে ভালো হয়ে যাবেন, তাই দাওয়াই নিতে নিয়মিত আসছেন। জাকুব মারাক তার বাড়ীর সামনে একটি চেয়ারে বসে অবিরাম তেল পড়া-ঝাড়ফুঁক চালিয়ে যাচ্ছেন।
সমশ্চুড়া গ্রামের করিমন বিবি (৭০) জানান, তার কোমরের ব্যাথা ভালো হয়েছে। একই গ্রামের রইছ উদ্দিন (৫৫) জানান, তার বাতের ব্যাথা একেবারে ভালো না হলেও অনেক কমেছে। হলদি গ্রামের ব্যাটারি অটো রিক্সা চালক মন্টু মিয়া (৩০) জানান, প্রথমে আমার পায়ের হাটুর ব্যাথা ভালো হলে পরবর্তিতে আমার মায়ের কোমরের ব্যাথাও ভালো হয় ওই তেল পড়া দিয়ে। এ ধরনের কথাবার্তার কারণে জাকুব মারাকের প্রতি বেড়েই চলেছে এক শ্রেণির মানুষের আস্থা। অন্যদিকে ভিড়ও বাড়ছে।
জাকুব মারাকের ভাষ্য, ৩/৪ বছর আগে পাহাড়ে এক সুফি এক দরবেশের মাধ্যমে তিনি তিনটি মন্ত্র পান। ওই মন্ত্র দিয়ে তাকে অসুস্থ মানুষকে ঝাড়ফুঁক দেয়ার নির্দেশ দিলেও অমান্য করায় তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। সুস্থ হওয়ার পর ৩ মাস ধরে এলাকার মানুষকে বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা (ঝাড়ফুঁক ও তেল পড়া) দিয়ে যাচ্ছেন।
কবিরাজের বাড়ীতে রিকশা, অটোরিকশা, মটর সাইকেলসহ নানা যানবাহন আসা-যাওয়া করছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, যানবাহন মানুষের ভিড় এসব দেখে কবিরাজের বাড়ীর আশ পাশে বিভিন্ন দোকানপাট বসতে শুরু করেছে।
এ ব্যাপারে শেরপুরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. সেলিম মিয়া জানান, সীমান্তের যে গারো কবিরাজের তেল পড়ায় রোগবালাই ভালো হওয়ার যে খবর ছড়িয়েছে বাস্তবতার সাথে তার কোন সত্যতা নেই। এটা ভাওতাবাজি ছাড়া আর কিছুই না।
রাইজিংবিডি/শেরপুর/৬ নভেম্বর ২০১৪/টিপু