রাসেল পারভেজ : চলে গেলেন সৌদি আরবের বাদশা আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ। রেখে গেলেন অনেক স্মৃতি। বিশেষ করে সৌদি সাম্রাজ্যের একজন সংস্কারক হিসেবে বাদশা আবদুল্লাহ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন রাজ্যের ইতিহাসে।
১ আগস্ট ১৯২৪ সালে জন্ম গ্রহণ করা বাদশা আবদুল্লাহ শুক্রবার প্রথম প্রহরে মারা গেলেন। সৌদি পরিবারের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, শুক্রবার দিবাগত রাত ঠিক ১টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।
বাদশা আবদুল্লাহর পিতা বাদশা আবদুল আজিজ বিন আবদুল রহমান ও তার ভাই বাদশা ফয়সাল সংস্কারপন্থি রাজা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু বাদশা আবদুল্লাহ তাদের ছাড়িয়ে গেছেন অনন্য কিছু কাজের মধ্য দিয়ে।
বাদশা আবদুল্লাহর সংস্কারের মধ্যে সবচেয়ে প্রাধান্য পেয়েছিল মানবিক উন্নয়ন। তিনি বলেছিলেন, তেলের জন্য নয়, এখন থেকে সৌদি আরব পরিচিত হবে মানুষের গুণে। নারী-পুরুষের কাজের মধ্য দিয়ে।
২০০৭ সালে বাদশা আবদুল্লাহ একান্ত প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয় অ্যালিগিয়েন্স এজেন্সি। এই এজেন্সির কাজ নতুন রাজা হাতে রাজ্যের দায়িত্ব তুলে দেওয়া। এর মধ্য দিয়ে রাজতন্ত্রের এক জটির সমস্যার সমাধান হয়েছে। বাদশা আবদুল্লাহর সৎভাই বাদশা সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ, যিনি এরই মধ্যে নতুন রাজা হিসেবে সৌদি আরবের দায়িত্ব নিয়েছেন, তিনিও তার ভাইয়ের মতো উদার রাজতন্ত্রের চর্চা করবেন বলে ধারণা করা হয়।
আঞ্চলিক ও বিশ্ব রাজনৈতিক পরিম-লে সৌদি আরবের অবস্থান আগের চেয়ে অনেক স্পষ্ট। এ জন্য বাদশা আবদুল্লাহর দ্ব্যার্থহীন নীতিই বেশি কাজ দিয়েছে। সুন্নি মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে পশ্চিমা প্রযুক্তিনির্ভর সমাজের আদলে সৌদি সমাজকে ঢেলে সাজানোর প্রচেষ্টা ছিল বাদশা আবদুল্লাহর।
২০০৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে সৌদি আরবের বাদশার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাদশা আবদুল্লাহ সাম্রাজ্য পরিচালনায় সংস্কার আনেন। তিনি এক অলিখিত অ্যাজেন্ডা নিয়ে কাজ শুরু করেন। এর ফল দেখা যায় ২০১১ সালে। প্রথমবারের মতো ৩০ জন নারীকে মনোনিত করে মজলিস- আল শুরার সদস্য করেন তিনি। রাজ্য পরিচালনায় নারীদের সম্মানের সঙ্গে নীতিনির্ধারণের আসনে অধিষ্ঠিত করার জন্য বাদশা আবদুল্লাহ বহির্বিশ্বে সমাদৃত হন।
২০১০ সালে বাদশা আবদুল্লাহ ও তার উত্তরাধিকারী সুলতান একজন ঘোমটাহীন নারীর সঙ্গে ছবি তোলেন। পরের দিন সৌদি আরবের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রচ্ছদে সেই ছবি প্রকাশিত হয়। স্বাস্যসেবায় নিয়োজিত নারীদের জন্য পোশাকি কড়াকড়ি অনেকটাই শিথিল করা হয়। নারীদের চলাফেরার স্বাধীনতাও প্রসারিত হয় বাদশা আবদুল্লাহ শাসনামলে।
২০০৯ সালে সৌদি আরবে প্রতিষ্ঠিত হয় বাদশা আবদুল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। বিজ্ঞানময় সমাজ গঠনে বাদশা আবদুল্লাহর প্রচেষ্টা চিরদিন মনে রাখবে সৌদি আরবের মানুষ।
লেখক : সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মী।
রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৩ জানুয়ারি ২০১৫/রাসেল পারভেজ