নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি দেশে সংঘাত ও অস্থিরতা তৈরি করতে চায়, অভিযোগ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলীয় নেতাকর্মীদের বলেছেন, ‘মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে। আমরা কারো সঙ্গে সংঘাতে যাব না।’
মঙ্গলবার (২৩ মে) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে এ কথা বললেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ এ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, সামনে নির্বাচন। তারা নির্বাচন চায় না। তারা চায় সংঘাত, অস্থিরতা, অশান্তি ও রক্তপাত। আমরা চাই, নির্বাচন—বাংলাদেশের জনকণ্ঠকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে। আমরা নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই।’
‘আমরা কারো সঙ্গে সংঘাত-পাল্টা সংঘাতে যাব না। আমরা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করব এই অপশক্তিকে। এই অপশক্তিকে বাংলার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘কাতারের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে নেত্রী বলে গেছেন, কোনো সংঘাতে যাওয়া যাবে না। আমরা সংঘাতে যাব না। কিন্তু, সংঘাত কেউ করতে আসলে আমরা চুপ করে বসে থাকব? আমাদের ওপর যদি কেউ হামলা চালায়, তাহলে আমরা হামলা চালাব না? হামলা করলে তার সমুচিত জবাব কিভাবে দিতে হয়, তা আওয়ামী লীগ জানে।’
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, কথায় কথায় আপনারা মাথা গরম করবেন না। ঠান্ডা মাথায় এই অপশক্তিকে বাংলাদেশের জনগণ রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করবে। যদি কেউ নির্বাচন প্রতিরোধ করতে আসে, আমরা সর্বশক্তি দিয়ে জনগণকে নিয়ে প্রতিরোধ করব।
আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে, দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনের দিকে সারা বিশ্ব তাকিয়ে আছে। আমি সরকারি দলের সেক্রেটারি বলছি, দুই দিন পর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন, এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে। এই নির্বাচনে সরকারি দল নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করবে না।
‘গাজীপুর সিটি নির্বাচনসহ সকল সিটি নির্বাচন এবং আগামীতে জাতীয় নির্বাচন ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার হবে। আমরা বিদেশিদের অনুরোধ করব, আপনারা আসুন এবং দেখুন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কিভাবে ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন হবে।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশে ঝড় বয়ে গেছে। সারাদেশ গর্জন করে উঠেছে। শেখ হাসিনাকে কটূক্তি, হত্যার হুমকি দেওয়ায় বাংলাদেশের মানুষ অবাক হলো। প্রকাশ্য দিবালোকে রাজশাহীর পুঠিয়ায় বিএনপির জেলা আহ্বায়ক হত্যার হুমকি দেওয়ার পর দুই দিন চলে গেলো, মির্জা ফখরুল একটা কথাও বললেন না, বিএনপির কোনো সিনিয়র নেতা একটা কোথাও বললেন না। সবাই নিরব হয় আছে।
‘তাই আজকে প্রশ্ন জাগে, এটা তার (চাঁদ) এক দফা নয়, এটা বিএনপির এক দফা। শেখ হাসিনাকে হত্যার মিশন নিয়ে তারা মাঠে নেমেছে। তাদের এক দফা শেখ হাসিনাকে হত্যা করা। শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তাই আজকে তার একমাত্র শত্রু। সেজন্যই বিএনপি ১৪ বছর পরে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। কিন্তু, জনগণের সাড়া না পেয়ে তারা এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, জনপ্রিয়তার শীর্ষে যে জননেত্রী, তাকে স্তব্ধ করে দিতে হবে। এই ষড়যন্ত্র নিয়ে তারা আজকে মাঠে নেমেছে।’
বিএনপির নেতাদের প্রতি প্রশ্ন রেখে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ফখরুল সাহেব, আমাদের পার্টির কোনো জেলার নেতা যদি খালেদা জিয়াকে হত্যা করার হুমকি দিত, তাহলে আপনারা কী করতেন? কী জবাব দিতেন, আমি জানতে চাই।
‘শেখ হাসিনাকে হত্যা করে আপনারা বাংলাদেশকে আপনাদের সেই ষড়যন্ত্রের, জঙ্গিবাদ-সাম্প্রদায়িকতার লীলাভূমিতে পরিণত করবেন, অস্ত্রপাচার-লুটপাট, গণতন্ত্রের হত্যার জন্য এই শ্যামল বাংলাদেশকে আফগানিস্তান-পাকিস্তান বানানোর যে দুঃস্বপ্ন আপনারা দেখছেন, তার পথের বাধা শেখ হাসিনা। তাকে হত্যা করে আপনারা স্বপ্নের বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করতে চান?’
তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশের মানুষ বুঝিয়েছে, ১৯৭৫ আর ২০২৩ এক নয়। বিএনপির উপলব্ধি করা উচিত, রাজশাহীর এক নেতা হুমকি দেওয়ায় সারাদেশ গর্জন করে উঠেছে। শেখ হাসিনার ওপর হামলা করলে আওয়ামী লীগ কর্মীরা চুপ করে বসে থাকবে না। শেখ হাসিনা, আপনি একা নন; বাংলাদেশের জনগণ আপনার সাথে আছে, সমগ্র বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের শত শত কর্মী বিপদে-আপদে, শত দুর্যোগে আপনার সাথে আছে।
প্রতিবাদ সমাবেশে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলী সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, এটা বিএনপি নেতাদের বক্তব্য। ১৯৭৫ ও ২১ আগস্টের মতো তারা আবারো ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তারা জানে, আগামী নির্বাচনে তারা আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ হবে। সেজন্য ষড়যন্ত্র আর হত্যার রাজনীতি শুরু করেছে। তাদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করে বাংলার মাটি থেকে তাদের বিতাড়িত করতে হবে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবু-উল আলম হানিফ বলেছেন, ‘রাজশাহী বিএনপির নেতা এই হুমকি দিয়েছে বলে সবাই বলছে। রাজশাহীর নেতার শেখ হাসিনাকে হত্যার চিন্তা থাকতে পারে না। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা খুনি জিয়াউর রহমান হত্যার মাধ্যমে রাজনীতি শুরু করেছেন। সেই বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নির্দেশে এই বক্তব্য এসেছে।’
‘এর মধ্যে দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে, বিএনপি শান্তি চায় না। বিএনপি আবারও অগ্নিসন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের পথে হাঁটবে। দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়। আমরা এই সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে বঙ্গবন্ধুকন্যাকে ক্ষমতায় রাখব।’
আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যে হুমকি দেওয়া হয়েছে, এটা বিএনপি নেতা চাঁদের একার কথা না, এটা খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের কথা। আমাদের শুধু বিক্ষোভ করলে চলবে না। সমস্ত শক্তি দিয়ে এদের মোকাবিলা করতে হবে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহম্মদ মন্নাফির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির। সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় এবং মহানগর নেতারা বক্তব্য রাখেন।