রাজনীতি

হাজার বছরেও একজন শেখ হাসিনা পাওয়া যাবে না: নৌ প্রতিমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী অনেকেই ছিলেন, প্রধানমন্ত্রী অনেকেই আসবেন; ত‌বে বদলে দেওয়া বাংলাদেশের রূপকার একজন শেখ হাসিনাকে হাজার বছরেও পাওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করে করেছেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

রোববার (১২ নভেম্বর) দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ পৌরসভার মাঠে বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠান ও নতুন কিছু প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি।

ভবিষ্যতে নেতৃত্ব তৈরি করার জন্য শিক্ষার্থীদের মাঝে নেতৃত্বের বীজ বপন করার ওপর গুরুত্বারোপ করে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আজকে তরুণ যারা আছে আমি তাদের বলবো, যারা মেধাবী ছাত্র তাদের বলবো; তোমরা শুধু ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার বা বড় চাকরি না, তোমাদের মধ্যে যাতে লিডারশিপ গড়ে ওঠে সেটার দিকেও তোমাদের মনোযোগ দিতে হবে। আমি শিক্ষকদের বলবো, আপনাদের ছাত্রদের মধ্যে নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য আপনার আপনারা চেষ্টা করবেন। কারণ নেতৃত্বের কোনও বিকল্প নেই।

‘এই ভূখণ্ডে আমরা অনেক নেতা পেয়েছি, অনেক সংগ্রাম হয়েছে, অনেক রক্ত দেওয়া হয়েছে, কিন্তু আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়নি। কারণ নেতৃত্বের দুর্বলতা ছিল, নেতৃত্ব সঠিক ছিল না, পরিকল্পনা ভুল ছিল। সঠিক নেতৃত্বই সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পারে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এই বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ নেতৃত্ব। সেজন্যই তিনি আমাদের আমাদের অধিকার দিয়েছেন, স্বাধীনতা দিয়েছেন, আমাদের পরিচয় দিয়েছেন। যতদিন পৃথিবী থাকবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আমাদের মাঝে, আমাদের নয়নের মাঝে জ্বলজ্বল করে তিনি আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবেন। কারণ তিনি আমাদের স্বাধীন সার্বভৌমত্ব বাংলাদেশ দি‌য়ে‌ছেন।’

নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর এই বাংলাদেশে অনেক নেতৃত্ব এসেছে, সরকারপ্রধান হয়েছেন, কিন্তু বাংলাদেশের এই পরিবর্তনটা কিন্তু কেউ দিতে পারেনি। আজকে বাংলাদেশ কোথায় চলে গেছে। মাতারবাড়ী থেকে কক্সবাজার যেতে দেড় ঘণ্টা লাগে, চট্টগ্রাম থেকে মাতারবাড়ী আড়াই ঘণ্টা লাগে সমুদ্রপথে। কাল কালকে বিকেল পাঁচটায় মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর উদ্বোধন শেষে রাত ১১টায় দিনাজপুরে এসে আমি নিজের বাড়িতে ভাত খেয়েছি। এটা কল্পনা করা যায়? এটা হচ্ছে শেখ হাসিনার উন্নয়ন। এই বাংলাদেশ বদলে গেছে।

‘২০০৮ সালে এই বাংলাদেশ বদলে দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিন বদলের সনদের কথা ব‌লে‌ছিলেন। আজ তিনি বাংলাদেশকে বদলে দিয়েছেন। চেনা-ই যায় না। শুধু রাস্তাঘাট-ব্রিজ-কালভার্ট নয়, মানুষের জীবন, মানুষের শিক্ষা, মানুষের স্বাস্থ্য, মানুষের চিন্তাভাবনা, চেতনা সবকিছু বদলে গেছে। এই রূপান্তরিত বাংলাদেশের রূপকার হচ্ছেন দেশরত্ন শেখ হাসিনা।’

এসময় খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নেতৃত্ব একটা বড় বিষয়। প্রধানমন্ত্রী অনেকে ছিলেন, অনেকে আসবে, কিন্তু আমরা একজন শেখ হাসিনা পাবো না। আগামী হাজার বছরে একজন বঙ্গবন্ধু পাওয়া যাবে না। আগামী হাজার বছরে একজন শেখ হাসিনা পাওয়া যাবে না।

তি‌নি ব‌লেন, আমি তার সান্নিধ্যে কাজ করি, আমি জানি তিনি কীভাবে এই বাংলাদেশকে ভালোবাসেন, এদেশের মানুষকে ভালবাসেন। শ‌নিবার কক্সবাজার জনসভায় মানুষ রোদের মধ্যে কষ্ট করে দাঁড়িয়ে আছেন জেনে মাতারবাড়ী সমুদ্র বন্দরের প্রোগ্রাম পিছিয়ে দিয়ে আগে সেখানে অংশগ্রহণ করেন।

‘মানুষের প্রতি তার যে ভালোবাসা, তার যে মমত্ববোধ, মায়া- এই একটি ঘটনা প্রমাণ ক‌রে। তিনি তার মমতার আঁচল দিয়ে এই বাংলাদেশকে ঢেকে রেখেছেন। শেখ হাসিনা যদি বাংলাদেশের সরকারপ্রধান না থাকতেন, এই বাংলাদেশ দেউলিয়া হয়ে যেত। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা সবকিছুতেই দেউলিয়া হয়ে যেত। এই বাংলাদেশের অপরূপ দৃশ্য পাওয়া যেত না।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবিশ্বাস্য দেশপ্রেমের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তিনি নেতৃত্বে থাকলে ২০৪১ সালের অনেক আগেই দেশ স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তর হবে। সেটা আগামী পাঁচ বছরের ভেতরেও হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এই বয়‌সেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবিশ্বাস্য পরিশ্রম করার ক্ষমতা, কর্মদক্ষতা এবং কর্মশক্তির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তিনি এই বয়সেও যে পরিশ্রম করেন তা চিন্তাও করা যায়। তার যে দায়বদ্ধতা মানুষের জন্য কিছু করার, এটা অসম্ভব। কাজেই আমি বলি সঠিক নেতৃত্বের কোনও বিকল্প নেই। পরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের কোনও বিকল্প নেই।

তার নির্বাচনী এলাকার সেতাবগঞ্জ পৌরসভায় পরিকল্পিত উন্নয়ন হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এজন্য এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আমরা সকলে মিলে উদযাপন করলাম।

এসময় সেতাবগঞ্জে আরও একটি মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়াম, শিল্পকলা কমপ্লেক্সসহ জনবান্ধব আরও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্ন দিনাজপুর গড়তে নাগরিক দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

সেতাবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. আসলামের সভাপতিত্বে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু সৈয়দ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আফসার আলী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডালিম সরকার, বোচাগঞ্চ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুবক্কর সিদ্দিক রাসেলসহ উপজেলার বিভিন্ন স্তরের নেতারা বক্তব্য রাখেন।