শোকের দ্বিতীয় দিনে (১ জানুয়ারি) সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে দলে দলে মানুষ আসছে। শোকের আবহে দলীয় নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা তার কবর জিয়ারত করছেন।
কবর জিয়ারতকালে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হচ্ছে। এ সময় খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্র ও দেশ পরিচালনায় তার অবদানকে স্মরণ করা হয়। পাশাপাশি দোয়া করা হয় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্যও।
এর আগে খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
দুপুরের পর থেকেই সমাধিস্থল এলাকায় মানুষের ঢল নামে। নারী-পুরুষ, তরুণ-যুবক, বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষকে দেখা যায় ফুল হাতে সমাধির সামনে দাঁড়িয়ে নীরবে শ্রদ্ধা জানাতে। অনেকেই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। কেউ কেউ কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেন।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন তাদের প্রিয় নেত্রীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। সমাধিস্থল ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে মানুষকে প্রবেশ ও বের হতে সহায়তা করতে দেখা যায় স্বেচ্ছাসেবকদের। সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে আসা একজন ব্যক্তি বলেন, “গতকাল ভিড়ের কারণে বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে পারিনি। আজ আমি আমার মাদ্রাসা পড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে এসেছি। তাকে নিয়ে তার মাজার জিয়ারত করতে চেয়েছি। এমন নেত্রী আর আসবে না।”
আরেক দর্শনার্থী বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনৈতিক নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের প্রতীক। তার জন্য দোয়া করতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি।”
সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন মেনে প্রতিদিন নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য সমাধিস্থল উন্মুক্ত থাকবে। দর্শনার্থীদের শালীনতা ও ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান রেখে চলাচলের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
শ্রদ্ধা জানাতে আসা বিএনপির নেতারা বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক। দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তার আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শন আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বৃহস্পতিবার চলছে দ্বিতীয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোক। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) শেষ হবে রাষ্ট্রীয় শোক পালন।