ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে ফের শাহবাগে অবস্থান নিয়েছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) জুমআর নামাজ শেষে দুপুর ২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে মিছিল নিয়ে তারা শাহবাগে অবস্থান নেন।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, “আমাদের কথা খুব সুস্পষ্ট। সরকার ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় চেয়েছে, আমরা ৩০ কার্যদিবস সময় দিয়েছিলাম। আর বাকি আছে ২২ দিন। আমরা ওই কার্যদিবস ধরেই আগাইতেছি। আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে যদি সরকার এই খুনের বিচারকার্য সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয় তাহলে আমরা ৩০ কার্যদিবসের পরে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করব।”
দুপুরে জুমার নামাজের পর ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থী-জনতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এসে শাহবাগের একপাশে অবস্থান নেন। এসময় উপস্থিত শিক্ষার্থী-জনতা উদ্দেশ্যে এক বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
খুনিদের গ্রেপ্তারে সরকারের সদিচ্ছা নেই উল্লেখ করে জাবের বলেন, "হাদিকে গুলি করা আজকে ২১ দিন অতিবাহিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এই খুনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ২১ জনকেও সরকার গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। খুনিদের বাপ, মা, বোন, ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে। খুনের সঙ্গে সম্পৃক্ত এমন একজনকেও তারা গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নি। গ্রেপ্তারের বিষয়ে কোন সদিচ্ছা আছে বলেও আমাদের কাছে মনে হচ্ছে না।"
আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, “যেই সরকার ওসমান হাদির খুনের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত তাদেরকে গ্রেপ্তার, সন্ধান পর্যন্ত দিতে ব্যর্থ হয়েছে সেই সরকারের তো ক্ষমতায় থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। যেই সরকার বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছে, গোয়েন্দা সংস্থা যে সরকারকে সাহায্য করছে না, কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারছে না, অসহায় হয়ে আছে। কোনো অসহায় মানুষকে আমরা রাষ্ট্রের ক্ষমতায় দেখতে চাই না।”
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব বলেন, “ওসমান হাদি বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং ইনসাফের আন্দোলন শুরু করেছিল। ফলে অনেকেই মনে করেছে হাদিকে যদি এখনই হত্যা করা না যায় তাহলে পরবর্তীতে তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। সীমান্তে লাশ ফেলা যাবে না। দিল্লির তাবেদারি করা যাবে না। এসব কিছু একই সূত্রে গেঁথে তারপর হাদিকে হত্যা করা হয়েছে।”
আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, “ডিএমপি কমিশনার সংবাদ সম্মেলন করে বলে যে ওসমান হাদির খুনের সঙ্গে জড়িত দুজনকে মেঘালয় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। মেঘালয় পুলিশ বলছে কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। তার মানে হলো ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত চার্জশিট দাখিল করতে পারে নাই, বিচার প্রক্রিয়া কতদূর এগিয়েছে জনগণকে বার্তা দিতে পারছে না, তাহলে এই সরকার দিয়ে আমরা কি করব?”