ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডে নির্বাচনবিরোধী অপশক্তি জড়িত থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, “হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে নির্বাচনকে প্রতিহত করা যাবে না।”
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর পান্থপথে মুছাব্বিরের বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, “মুছাব্বিরকে পরিকল্পিতভাবেই হত্যা করা হয়েছে। যারা গণতন্ত্র চায় না, নির্বাচন চায় না—তারাই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। এটি একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ।”
তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত দাবি করেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, “পতিত স্বৈরাচারী শক্তি নির্বাচনকে বানচাল করার লক্ষ্যে ধারাবাহিক ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। এই ধরনের হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে নির্বাচন প্রতিহত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু জনগণ গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করেছে, জীবন দিয়েছে। এ ষড়যন্ত্র সফল হবে না।”
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “গত এক বছরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এ অবস্থায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো সতর্ক ও তৎপর হতে হবে।”
তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ঘটনার পর তদন্ত নয়, আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড না ঘটে।”
মুছাব্বিরের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে মুছাব্বিরের স্ত্রী ও সন্তানদের আজীবন প্রয়োজনীয় সব দায়িত্ব বিএনপি দলীয়ভাবে নেবে।”
এ সময় উপস্থিত ঢাকা-১২ আসনের প্রার্থী ও ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, “নির্বাচন বানচাল ও দেশকে অস্থিতিশীল করতে একটি নির্বাচনবিরোধী চক্র সক্রিয় রয়েছে।”
তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, “ছোটখাটো চ্যালেঞ্জ থাকলেও আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের আরো দৃশ্যমান ও কার্যকর উদ্যোগের তাগিদ দেন।”
গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর পশ্চিম তেজতুরি বাজার এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন আজিজুর রহমান মুছাব্বির।