সাধারণ রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে কাজ করতে চান উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে ‘মাননীয়’ সম্বোধন না-করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে একজন সাংবাদিক নেতা তাকে ‘মাননীয়’ সম্বোধন করলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তারেক রহমান বলেন, “দয়া করে আমার নামের আগে ‘মাননীয়’ সম্বোধন ব্যবহার করবেন না।”
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকতে হলেও তার মন সবসময় বাংলাদেশেই ছিল। দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি সবসময় চিন্তিত ছিলেন বলেও জানান তিনি।
বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে এটিই ছিল তারেক রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক মতবিনিময়।
বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘‘বর্তমান বাস্তবতায় ৫ আগস্টের আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যে কোনো মূল্যে দেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে এবং তা বজায় রাখতে হবে।’’
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘জবাবদিহি না থাকলে রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে অনিয়ম বাড়ে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করাই হবে দলের অন্যতম লক্ষ্য।’’
এ সময় দেশকে এগিয়ে নিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘অতীত সরকারগুলোর সময়ে মতবিরোধ ও বিভাজনের রাজনীতি দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে।’’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
কর্মসংস্থান দেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘‘যদি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা না যায়, তাহলে অর্জিত সব সাফল্য ধ্বংস হয়ে যাবে। এ কারণে বিএনপি ক্ষমতায় এলে নারী, কৃষক, প্রবাসী, তরুণসহ সব শ্রেণির নাগরিকের জীবনমান উন্নয়নে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।’’
দেশ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্বশীল ও স্বাধীন সাংবাদিকতা গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি। গণমাধ্যমকর্মীরা বস্তুনিষ্ঠ ও সাহসী ভূমিকা রাখবেন—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের পর তারেক রহমান নিজে গিয়ে সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমের শীর্ষ সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।