বিএনপির নেতাদের বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, ‘‘বর্তমানে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে বিএনপি কথা বললেই তা বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়।’’ এ ক্ষেত্রে তাকেই টার্গেট করা হয় বলে দাবি করেন এ নেতা।
রবিবার (১২ জানুয়ারি) বারডেম হাসপাতালে প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত খতমে কোরআন, দোয়া মাহফিলে তিনি এ সব কথা বলেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, “আমরা নিয়ম মেনেই চলি কিন্তু সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিন্নভাবে তুলে ধরা হয়। আমি কোথাও গেলে অনুমতি ও পরিচয়পত্র নিয়েই যাই, তবুও সেটিকে অন্যায়ভাবে উপস্থাপন করা হয়। মনে হয়, এখন একমাত্র টার্গেট আমি।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপি ও তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘‘একটি গোষ্ঠী কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।’’ এ সময় তিনি দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে এসব অপপ্রচারের জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “শুধু লাইক বা শেয়ার নয়, মিথ্যার বিরুদ্ধে যুক্তি দিয়ে জবাব দিতে হবে।”
অভিযোগ করে বলেন, ‘‘দেশে পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা চলছে এবং বিএনপিকে কথা বলতে না দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।’’
নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘‘দেশের কিছু পতিত রাজনৈতিক শক্তি নির্বাচন বন্ধ করতে চক্রান্ত করছে, কারণ তারা জানে জনগণ তাদের গ্রহণ করবে না। আমরা কখনোই দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে পা দেবো না। বিএনপি সব সময় গণতন্ত্র ও নির্বাচনের পক্ষে।’’
বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘তাকে পরিকল্পিতভাবে যথাযথ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল।’’ তবে তিনি ঢাকার চিকিৎসকদের প্রশংসা করে বলেন, ‘‘লন্ডনের চিকিৎসকরাও স্বীকার করেছেন, বাংলাদেশে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল।’’ তিনি দেশের চিকিৎসকদের ওপর তার আস্থার কথাও তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, বারডেম হাসপাতালের পরিচালক ডা. নাসির উদ্দীনসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।