বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট ও ড্যান মজিনা খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ও ব্যক্তিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
মার্শা বার্নিকাট ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এবং ড্যান মজিনা ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (১২ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত খালেদা জিয়াকে নিয়ে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বার্নিকাট; যেখানে আলোচক ছিলেন মজিনাও।
মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীর উদ্যোগে এই স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। ৩০ ডিসেম্বর চিকিৎসার সব চেষ্টা ব্যর্থ করে মারা যান বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
খালেদা জিয়ার স্মৃতির কথা স্মরণ করিয়ে বার্নিকাট বলেন, “দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা নির্যাতন, চাপ ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কখনো অভিযোগের সুরে কথা বলেননি। একজন নারী নেত্রী হিসেবে তার দৃঢ়তা, সহনশীলতা ও নেতৃত্ব দক্ষিণ এশিয়ায় একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।”
“খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার বহুবার সাক্ষাৎ হয়েছে,” যোগ করে তিনি বলেন, “অত্যন্ত সংকটময় ও কঠিন সময়েও খালেদা জিয়াকে আমি সব সময় হাস্যোজ্জ্বল, শান্ত ও আন্তরিক হিসেবে পেয়েছি। তিনি ছিলেন অমায়িক ও হৃদ্যতাপূর্ণ একজন মানুষ, যিনি সবসময় বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।”
বার্নিকাট বলেন, “বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ততদিন মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে খালেদা জিয়ার অবদান ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার স্মরণ করবে।”
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, “খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী।”
তিনি বলেন, “দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান যখন ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে এবং বিরোধী কণ্ঠ রুদ্ধ করা হয়েছে, তখন খালেদা জিয়া নির্ভীকভাবে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন।”
খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক বন্দিত্বকে একটি ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ হিসেবে বর্ণনা করে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মানবাধিকার প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরেন আনসারী।
স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা। তিনি খালেদা জিয়ার অমায়িক ব্যক্তিত্বের কথা স্মরণ করে বলেন, “গুরুতর অসুস্থতা ও অসীম কষ্টের মধ্যেও তিনি রাজনৈতিক সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। অন্যদের জন্য তার দ্বার সবসময় উন্মুক্ত ছিল।”
তিনি আরো বলেন, তার দায়িত্ব পালনকালে খালেদা জিয়া বিরোধী দলে থাকলেও সবার সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করে রেখেছিলেন এবং তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের উন্নতি ঘটেছে।
ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত সভাপতি মার্ক শেফ বলেন, “বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক চ্যাম্পিয়নের স্মরণসভা আয়োজন করতে পেরে আমরা গর্বিত। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে অনেক দূর এগিয়ে গেছে।”
ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তজা বলেন, “বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও জাতীয় রাজনীতিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের অবদান অনস্বীকার্য।”
স্মরণসভায় অন্যান্যের মধ্যে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) সাবেক সম্পাদক ম্যারন বিলকাইন্ডসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।
বক্তারা সবাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে খালেদা জিয়ার অবদান, তার সংগ্রামী জীবন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।