প্রবাসে কর্মরত শ্রমিক, কাজ শেষে দেশে ফেরা প্রবাসী এবং ভবিষ্যতে যারা প্রবাসে যাওয়ার চেষ্টা করছেন—সবার কল্যাণ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব, এমনটাই মনে করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী প্রবাস প্রত্যাগত শ্রমিক দলের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, “প্রবাসে কর্মরত মানুষের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত মূল্যবান। তারা যে অর্থ সঞ্চয় করে দেশে ফেরেন, তা আসে প্রচণ্ড কষ্টের বিনিময়ে। বিদেশে প্রতারণার সুযোগ তুলনামূলক কম হলেও দেশে ফিরে সেই সঞ্চিত অর্থ যদি ভবিষ্যৎ কল্যাণে সঠিকভাবে ব্যবহার করা না যায়, তাহলে অল্প সময়ের মধ্যেই সেই সঞ্চয় শেষ হয়ে যায়। এতে প্রত্যাগত প্রবাসীরা আবার নিঃস্ব হয়ে পড়েন।”
আমরা বিশ্বাস করি—যারা প্রবাসে আছেন বা ছিলেন, তারা প্রবাসীদের কল্যাণে বিএনপি সরকারের অবদান চিরদিন স্মরণ রাখবেন। ভবিষ্যতে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসবেন, তারা প্রবাসী ভাই-বোনদের কল্যাণকে বিশেষ গুরুত্ব দেবেন। যারা দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি অবদান রাখছেন এবং একই সঙ্গে সারা বিশ্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন, তাদের জন্য নতুন নতুন কল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে, বলেও তিনি আশাবাদী।
প্রত্যাগত প্রবাসী শ্রমিকদের স্থায়ী কল্যাণ নিশ্চিত করতে জাতীয়তাবাদী প্রবাস প্রত্যাগত শ্রমিক দলের সুপরিকল্পিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “দেশের বিদ্যমান আইন, প্রচলিত ব্যবস্থা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধার আলোকে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতে পারে। প্রয়োজনে বিদ্যমান আইন, বিধান বা ব্যবস্থার পরিবর্তন ও উন্নয়নের প্রস্তাব দেওয়া যেতে পারে, যাতে প্রত্যাগত প্রবাসীরা বাস্তবভাবে উপকৃত হন।”
এছাড়াও, তিনি মনে করেন, এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে আন্তরিকতা ও ধারাবাহিকভাবে কাজ করতে হবে।
জাতীয়তাবাদী প্রবাস প্রত্যাগত শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন কাজলের সভাপতিত্বে দোয়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা নাজিম উদ্দিন আলম।