ফেডারেল অভিবাসন পুলিশ (আইস)-এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র। রবিবারও (২৫ জানুয়ারি) মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপলিস সহ বিভিন্ন শহরে আইসবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। ফেডারেল আইস এজেন্টদের গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী আইসিইউ নার্স অ্যালেক্স প্রেত্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় এই প্রতিবাদের সূত্রপাত।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ বলেছেন, আমেরিকা এখন একটি ‘সন্ধিক্ষণে’ দাঁড়িয়ে আছে। তিনি মিনিয়াপলিস থেকে ফেডারেল আইস এজেন্টদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি পুনরায় আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েম দাবি করেন, প্রেত্তির একটি বন্দুক ‘উঁচিয়ে ধরেছিলেন’ বলেই শনিবার তাকে গুলি করা হয়েছে। তবে মিনিয়াপলিস কর্তৃপক্ষ এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, ওই বন্দুকটি বৈধভাবে নিবন্ধিত ছিল এবং বন্দুকটি কেড়ে নেওয়ার পরই তাকে গুলি করে হত্যা করে ফেডারেল আইস এজেন্টরা।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তিনি মিনিয়াপলিস এলাকা থেকে আইস এজেন্টদের সরিয়ে নিতে ইচ্ছুক হতে পারেন, তবে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “কোনো এক সময় আমরা চলে যাব। তারা (এজেন্টরা) অসাধারণ কাজ করেছে।”
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন বিরোধী কঠোর অভিযানে চলতি মাসে মিনিয়াপলিসে এ নিয়ে দুজন নাগরিক ফেডারেল আইস এজেন্টদের গুলিতে নিহত হলেন। এ ঘটনায় শহরজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
৬৯ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা পেজ মিলার রবিবার প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দিয়ে জানান, তিনি আইস সংস্থার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ। তিনি বিবিসিকে বলেন, “আমি প্রতিবাদ করতে করতে ক্লান্ত। আমরা বুঝতেই পারছি না কেন এমনটা ঘটছে। আমরা কেন এটা হতে দিচ্ছি?”
বিক্ষোভকারীরা মিনিয়াপলিসের রাস্তায় আইসবিরোধী স্লোগান দেন। নিউ ইয়র্ক, শিকাগো, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং সান ফ্রান্সিসকোর মতো শহরগুলোতেও এই প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে।
মিনিয়াপলিসের পুলিশ প্রধান ব্রায়ান ও’হারা বিবিসিকে জানান, প্রেত্তিকে গুলি করার স্থানটিতে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রবেশ করতে বাধা দিয়েছিল ফেডারেল এজেন্টরা, যদিও পুলিশের কাছে তল্লাশি পরোয়ানা ছিল। তিনি আরো জানান, প্রেত্তি একজন বৈধ বন্দুকের মালিক ছিলেন এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন ছাড়া তার কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না।
অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন এই অভিযানকে ‘জননিরাপত্তা রক্ষার প্রচেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং প্রেত্তিকে একজন ‘স্থানীয় সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
এ ঘটনায় রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেও সমালোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে ওকলাহোমার গভর্নর কেভিন স্টিট বলেন যে, ‘ফেডারেল কৌশল ও জবাবদিহিতা’ ভোটারদের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা হুমকি দিয়ে বলেছেন, যদি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগে অর্থায়ন কমানো না হয়, তাহলে তারা সরকারের অর্থায়ন প্যাকেজ আটকে দেবেন, যার ফলে সরকার অচল হয়ে যেতে পারে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও বারাক ওবামা দুজনেই বর্তমান পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেছেন।
তবে রবিবার সন্ধায় রিপাবলিকান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্লাটফর্মে মিনেসোটার গভর্নর ওয়ালজ এবং মিনিয়াপলিসের মেয়র ফ্রেকে পাল্টা আক্রমণ করে বলেন, “ডেমোক্র্যাট গভর্নর ও মেয়রদের উচিত বিশৃঙ্খলা না ছড়িয়ে ফেডারেল আইনের সঙ্গে সহযোগিতা করা।”